“রথযাত্রার আগে জগন্নাথদেব কোথায় যান? পুরীর এই মন্দিরে পুজো দিলেই মেলে মূল মন্দিরের সমান পুণ্য!”

রথযাত্রার আগে জগন্নাথদেবের দেখা মেলে না পুরীর মূল মন্দিরে? জেনে নিন রহস্যময় ‘আলারনাথ’ মন্দিরের কথা
রথযাত্রার আমেজ শুরু হতেই ভক্তদের ঢল নামে পুরীতে। কিন্তু রথযাত্রার ঠিক আগে ভক্তদের মনে একটি প্রশ্ন জাগে— জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা কি এই সময়ে ভক্তদের দর্শন দেন? হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, স্নানযাত্রার পর ভগবানরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন মূল মন্দির ছেড়ে ভক্তদের অগোচরে তাঁরা চলে যান ‘অনসার’ ঘরে। প্রায় ১৫ দিন সেখানে চলে তাঁদের বিশ্রাম ও বিশেষ চিকিৎসা।
কিন্তু এই সময়ে ভক্তরা জগন্নাথদেবের দর্শন থেকে বঞ্চিত হন না। ভক্তদের জন্য খুলে যায় ব্রহ্মগিরির বিখ্যাত ‘আলারনাথ’ মন্দিরের দরজা। পুরী থেকে প্রায় ২৫–৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দিরে রথযাত্রার আগের এই ১৫ দিন জগন্নাথদেব ‘বিষ্ণু’ রূপে পূজিত হন। ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, অনসারের এই সময়ে আলারনাথ মন্দিরে পুজো দিলে তা পুরীর মূল মন্দিরে জগন্নাথদর্শনের সমান পুণ্য বয়ে আনে।
কেন বিখ্যাত আলারনাথ মন্দির? আলারনাথ মন্দিরের মাহাত্ম্য কেবল এইটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার পৌরাণিক ইতিহাস ও নানা কিংবদন্তি আজও ভক্তদের শিহরিত করে। মন্দিরের প্রধান বিগ্রহটি কালো পাথরে নির্মিত একটি প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি, যার চার হাতে রয়েছে সুদর্শন চক্র, পদ্ম, শঙ্খ ও গদা। গর্ভগৃহে রয়েছেন রুক্মিণী ও সত্যভামা।
সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো এখানকার ‘ক্ষীর ভোগ’-এর কাহিনী। কথিত আছে, এক শিশু ভক্তের গভীর ভক্তি ও ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে স্বয়ং জগন্নাথদেব গরম ক্ষীর খেতে গিয়েছিলেন। সেই তাড়াহুড়োয় গরম ক্ষীরে তাঁর আঙুল পুড়ে গিয়েছিল বলে বিশ্বাস করেন অনেকে। আজও নাকি বিগ্রহের গায়ে সেই পোড়া আঙুলের চিহ্ন স্পষ্ট! এছাড়া, মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবও অনসার কালে এই মন্দিরে এসে জগন্নাথদেবকে দর্শন করতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
নবযৌবন দর্শন ও রথযাত্রা অনসারের ১৫ দিন শেষে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা যখন নতুন রূপে ভক্তদের সামনে আসেন, সেই বিশেষ মুহূর্তকে বলা হয় ‘নবযৌবন দর্শন’। এরপরই শুরু হয় বিশ্ববিখ্যাত রথযাত্রা।
তাই পুরীর মূল মন্দিরে রথযাত্রার আগে গর্ভগৃহ বন্ধ থাকলেও, ভক্তদের বিশ্বাস ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ব্রহ্মগিরির এই আলারনাথ মন্দির। রথযাত্রার আগে জগন্নাথদেবের সান্নিধ্য পেতে চাইলে এই পবিত্র মন্দিরটি হতে পারে আপনার তীর্থস্থানের অন্যতম সেরা গন্তব্য।