তৃণমূলের আমলে বন নিধনের অভিযোগ শুভেন্দুর: ‘সব ধ্বংস করেছে, গাছও রেহাই পায়নি’

তৃণমূলের আমলে বন নিধনের অভিযোগ শুভেন্দুর: ‘সব ধ্বংস করেছে, গাছও রেহাই পায়নি’

অরণ্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের পরিবেশগত নীতি ও বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বর্তমান বনজ সম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে রাজ্যে বনাঞ্চল ধ্বংসের উৎসবে মেতেছিল তৃণমূল সরকার।

শুভেন্দুর অভিযোগের মূল বিষয়গুলি:

  • বনাঞ্চল নিধন: আকাশপথে পরিদর্শনের সময় তরাই-ডুয়ার্স, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও জলদাপাড়ার মতো বনাঞ্চলের শোচনীয় দশা দেখে তিনি গভীর কষ্ট পেয়েছেন বলে জানান।
  • নিয়ম লঙ্ঘন: রাজ্যের পরিবেশ রক্ষার আইন অনুযায়ী, উন্নয়নমূলক কাজে দুই-তৃতীয়াংশ কংক্রিটের নির্মাণের বিপরীতে এক-তৃতীয়াংশ গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে।
  • পাচারচক্র: বনজ সম্পদ রক্ষা তো দূর, বরং বন থেকে গাছ চুরি ও পাচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, অসাধু চক্র বনাঞ্চলকে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করেছে।

পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা: রাজ্যকে পুনরায় সবুজে ভরিয়ে তোলার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন:

১. ১০ কোটি বৃক্ষরোপণ: চলতি অরণ্য সপ্তাহে রাজ্যে ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের এই কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২. রক্ষণাবেক্ষণের কড়া নির্দেশ: কেবল গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, রোপিত গাছগুলি যাতে অন্তত দুই বছর সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. আইনি পদক্ষেপ: গাছ চুরি, পাচার এবং অবৈধ করাতকল (কাঠের মিল) বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আসুন সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রাজ্যকে অরণ্যময় করে তুলি।” পরিবেশ রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *