“স্তনে* হাত দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টা নয়? হাইকোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট, এল কড়া বার্তা

নয়া দিল্লি: মহিলার সালোয়ার খোলা এবং স্তনে হাত দেওয়াকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য করা যাবে না—পাটনা হাইকোর্টের এই বিতর্কিত রায় নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, যৌন হেনস্থার মামলাগুলোতে রায় দেওয়ার আগে বিচারকদের আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে।
কী বলেছিল হাইকোর্ট? সম্প্রতি পাটনা হাইকোর্ট একটি মামলার রায়ে জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ও ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের স্পষ্ট চেষ্টার প্রমাণ ছাড়া এটিকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলা যায় না। তবে আদালত স্বীকার করে যে, স্টুডিওর দরজা বন্ধ করে ওই তরুণীর স্তন চেপে ধরার ঘটনাটি ঘটেছে। হাইকোর্ট এই ঘটনাকে ধর্ষণের চেষ্টা না বলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারা অনুযায়ী ‘শ্লীলতাহানি’ হিসেবে গণ্য করে সাজা প্রদান করে। এর আগে ২০২৫ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টও প্রায় একই ধরণের একটি রায়ে বলেছিল, পাজামার ফিতে টানা বা স্তনে হাত দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টা নয়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: এই ধরণের একের পর এক সংবেদনশীলতা-হীন রায়ের প্রেক্ষিতে আইনজীবী শোভা গুপ্তা শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপরেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “বিচারকদেরও কিছুটা পড়াশোনা ও গবেষণা করার দায়িত্ব থাকে। আদালতের কর্মীরা (স্টাফ) কিছুই করছেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরণের রায় দেওয়ার আগে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার অভাব স্পষ্ট।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ: ১. গাইডলাইন মান্য: যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচারবিভাগীয় সংবেদনশীলতার জন্য ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির তৈরি হ্যান্ডবুক অনুসরণ করা সমস্ত আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২. ওয়েবসাইটে প্রকাশ: সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, এই নির্দেশিকা বা হ্যান্ডবুক অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের সমস্ত হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। ৩. পুলিশের জন্য বার্তা: কেবল আদালত নয়, এফআইআর (FIR) দায়ের ও চার্জশিট জমা দেওয়ার সময় পুলিশকেও এই হ্যান্ডবুক কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই মর্মে রাজ্য সরকারগুলিকে সমস্ত থানায় নির্দেশিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।