জগন্নাথ দেবের চাই বাংলার মিহিদানা! মাহেশের রথে মহাপ্রভুর ৫৬ ভোগে আর কী কী থাকে?

হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব। প্রায় ৬৩০ বছরের পুরনো এই রথযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস ও লোককথা। তবে ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি যা নজর কাড়ে, তা হলো মহাপ্রভুর ৫৬ ভোগ!
জগন্নাথ দেবের প্রিয় বাংলার মিহিদানা! কিংবদন্তি অনুযায়ী, স্বয়ং জগন্নাথ দেবের নাকি বাংলার মিহিদানা খাওয়ার শখ হয়েছিল! সেই ঐতিহ্য মেনে আজও স্থানীয় প্রাচীন মিষ্টির দোকানের বিশেষ ঘুটকে সন্দেশ ও মিহিদানা পরম ভক্তিতে নিবেদন করা হয় মহাপ্রভুকে। রথ ও উল্টোরথের মধ্যবর্তী সময়ে এখানে জগন্নাথ দেবকে দেওয়া হয় বিশেষ ৫৬ ভোগ।
কী কী থাকে মহাপ্রভুর ভোগে?
- বিশেষ পদ: সুগন্ধী পোলাও, খিচুড়ি, ধোঁকার ডালনা, ছানার ডালনা, পনির এবং আলুর দম।
- মিষ্টিমুখ: শেষ পাতে ক্ষীরের পায়েস ও মহাপ্রভুর অতি প্রিয় মালপোয়া।
- কড়া নিয়ম: জগন্নাথ দেবের ভোগে সাধারণ নুন একেবারেই নিষিদ্ধ। বদলে শুধুমাত্র সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করা হয়।
সারা বছর সাধারণ দিনে মহাপ্রভুকে খিচুড়ি, সাদা ভাত, ভাজা, শাক, অড়হর ডাল ও চাটনি নিবেদন করা হয়। তবে বিশেষ দিনে মেনুতে থাকে এলাহি আয়োজন।
ইতিহাস ও ‘মাসির বাড়ি’র অজানা তথ্য ইতিহাস বলছে, ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে মাহেশে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। সোজা রথের দিন জিটি রোড ধরে রথ টেনে তিন বিগ্রহকে সাড়ম্বরে নিয়ে যাওয়া হয় গুণ্ডিচাবাটী বা ‘মাসির বাড়ি’তে।
তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই ‘মাসি’ কিন্তু মায়ের বোন নন! জগন্নাথ দেব আসলে যান তাঁর সখী পৌর্ণমাসির কুঞ্জে। এই ‘পৌর্ণমাসি’ থেকেই লোকমুখে ‘মাসি’ কথাটির চল হয়েছে।
কালের নিয়মে জিটি রোডের দু’ধারে বসা মাহেশের রথের মেলার জৌলুস ও পরিধি কিছুটা কমলেও, আজও আষাঢ় মাসে লক্ষাধিক ভক্তের ভিড় আর জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে হুগলির এই প্রাচীন তীর্থক্ষেত্র।