‘বিজেপি চেয়েছিল আমার হার্ট অ্যাটাক হোক!’ দলবদলের ঝড়ের মাঝেই চরম হুঙ্কার মমতার

কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর আলোড়ন। দলের অন্দরের এই ডামাডোল ও হেভিওয়েট নেতাদের প্রস্থানের মাঝেই নিজের শক্তিমত্তা প্রমাণে ময়দানে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক লাইভে এসে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, কোণঠাসা হলেও তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- মমতার নিশানায় বিজেপি: তৃণমূলের এই ভাঙনের নেপথ্যে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শাসক দল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করার নোংরা ষড়যন্ত্র করছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি চেয়েছিল আমার যেন হার্ট অ্যাটাক হয়। কিন্তু আমি ওদের শেষ দেখে ছাড়ব, তার আগে আমার কিছু হবে না।”
- বিদ্রোহী মদনের নিশানায় অভিষেক: মদন মিত্র দল ছাড়ার কারণ হিসেবে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুষেছেন। তাঁর দাবি, অভিষেককে অন্তত ছয় মাসের জন্য সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। মদন শিবিরের দাবি, তাঁরা দল ছাড়েননি, বরং দলেরই অন্য শিবিরে গেছেন।
- ‘কালীঘাট’ বনাম ‘ঋতব্রত’ শিবির: রাজ্য রাজনীতি এখন কার্যত ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বনাম ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে বিভক্ত।
শেষ লড়াইয়ের ডাক: যাঁরা দলের অন্দরে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাঁদের কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন মমতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ভাঙনে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং যে বিশ্বস্ত কর্মীরা এখনো অটুট রয়েছেন, তাঁদের নিয়েই তিনি নতুন করে লড়াই শুরু করবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘শেষ দেখে ছাড়ার’ হুঙ্কার কি তৃণমূলের হারানো জমি ফেরাতে পারবে? নাকি এই ভাঙন আগামী দিনে আরও বড় আকার নেবে? সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।