রথযাত্রা মানেই জিলিপি-পাঁপড়! জগন্নাথদেবের ৫৬ ভোগে না থাকলেও কেন এই চল?

রথযাত্রা মানেই জিলিপি-পাঁপড়! জগন্নাথদেবের ৫৬ ভোগে না থাকলেও কেন এই চল?

পুরী, মাহেশ কিংবা কলকাতার ইসকন—রথযাত্রা মানেই ভিড়, দড়িতে টান আর মেলার স্পেশাল জিলিপি ও পাঁপড় ভাজা। বাঙালির রথের আনন্দ এই দুটি খাবার ছাড়া যেন একেবারেই আসাম্পূর্ণ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, জগন্নাথদেবের ঐতিহ্যবাহী ৫৬ ভোগের তালিকায় এই খাবারগুলোর কোনও অস্তিত্বই নেই! তাহলে কী করে এরা রথযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠল? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কিছু চমকপ্রদ পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক কাহিনি।

কী বলছে পুরাণ? কিংবদন্তি অনুযায়ী, স্নানযাত্রায় ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করে প্রভু জগন্নাথদেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ নিভৃতবাস ও পাচন খেয়ে সুস্থ হওয়ার পর, রথে চেপে মাসির বাড়ি যাওয়ার সময় তাঁর মুখের স্বাদ বদলানোর ইচ্ছে হয়। কথিত আছে, সেই ইচ্ছেপূরণ করতেই নাকি তিনি নোনতা পাঁপড় ও মিষ্টি জিলিপি গ্রহণ করেছিলেন। সেই থেকেই ভক্তদের আবেগের সঙ্গে মিশে যায় এই খাবারগুলো।

ইতিহাসের পাতায় জিলিপি ও পাঁপড়

  • জিলিপির আগমন: এর উৎপত্তি মূলত মধ্যপ্রাচ্য বা আফগানিস্তানে। মুঘলদের হাত ধরে ভারতে এর প্রবেশ। পরবর্তীকালে বর্ধমানের রাজা মহতাবচন্দ্র বাহাদুর ইফতারের সময় মানকচুর জিলিপি তৈরি করিয়ে বিলি করতেন, যা বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
  • পাঁপড়ের আদি কথা: এটি মূলত উত্তর ভারত তথা পাঞ্জাবের খাবার হলেও, রামায়ণের যুগে ভরদ্বাজ মুনির আতিথেয়তায় পাঁপড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।

গ্রামবাংলার মেলায় কীভাবে এল এই চল? আগেকার দিনে গ্রামবাংলার মেলায় সাধারণ মানুষের পক্ষে দামি মিষ্টি কেনা সবসময় সম্ভব হতো না। অল্প খরচে জিলিপিই ছিল মেলার প্রধান আকর্ষণ। আর মিষ্টি জিলিপির সঙ্গে স্বাদের নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে ‘দোসর’ হিসেবে জুড়ে যায় নোনতা ও মুচমুচে পাঁপড় ভাজা।

কালের নিয়মে ৫৬ ভোগের অংশ না হয়েও, আজ রথের মেলার ভিড়ে গরম জিলিপি আর মুচমুচে পাঁপড় বাঙালির নস্টালজিয়া ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *