‘সাধুর অতীত’ ভুলে দল ভারী করার স্ট্র্যাটেজি! শমীককে এড়িয়ে শুভেন্দুর নীতিতেই কি সিলমোহর দিল্লির?

‘সাধুর অতীত’ ভুলে দল ভারী করার স্ট্র্যাটেজি! শমীককে এড়িয়ে শুভেন্দুর নীতিতেই কি সিলমোহর দিল্লির?

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নেতা ভাঙানো নিয়ে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে। একদিকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ভিন দলের নেতাদের নেওয়ার ঘোর বিরোধী, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইছেন দলবদলের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে। তবে সূত্রের খবর, এই দ্বন্দ্বের আবহে শুভেন্দুর স্ট্র্যাটেজিতেই কার্যত সিলমোহর দিচ্ছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ।

দিল্লির অবস্থান কী?

  • সংগঠন বিস্তার: কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, অন্য দল থেকে নেতাদের নেওয়ার দরজা বন্ধ রাখলে দলের বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানো কঠিন হবে।
  • স্বাধীনতার ছাড়পত্র: দলবদলের বিষয়ে এখনই রাজ্যকে কোনও লিখিত বা মৌখিক নির্দেশ দিচ্ছে না হাইকমান্ড। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার থাকছে রাজ্য নেতৃত্বের হাতেই।

শমীক বনাম শুভেন্দু

  • বিধানসভায় বিপুল জয় পেয়ে সরকার গড়ার পর থেকেই শমীক ভট্টাচার্য বারবার দাবি করে এসেছেন, তৃণমূল বা অন্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। তিনি দলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখতে আগ্রহী।
  • বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপে। তিনি প্রকাশ্যেই তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা-সাংসদদের সঙ্গে কলকাতা ও দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাস্তব চিত্র ও দলের অন্দরের সমীকরণ রাজ্য সভাপতির কড়া বার্তার মাঝেই সম্প্রতি তৃণমূলের তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীকের বক্তব্যের সঙ্গে দলের বাস্তব পদক্ষেপের এই আকাশ-পাতাল ফারাক বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ‘সাধুর অতীত’ ভুলে সংগঠন পোক্ত করার প্রশ্নে শুভেন্দু অধিকারীর পাশেই দাঁড়াচ্ছে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *