‘ইডির চেয়ে অভিষেককে বেশি ভয়!’ দল ছেড়েই মমতাকে হোয়াটসঅ্যাপে ‘সরি’ মদনের

রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় চমক! এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) সমন পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শিবির বদল করলেন কামারহাটির ডাকাবুকো বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার বিধানসভায় গিয়ে সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিলেন তিনি। আর দলত্যাগের আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালেন একটি মাত্র শব্দ— ‘সরি’! দল ছাড়ার পরই মদন মিত্রের নিশানায় উঠে এসেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘ইডির থেকে অভিষেককে বেশি ভয়’ শিবির বদলের কারণ হিসেবে ‘ভয়’-এর কথা অকপটে স্বীকার করেছেন মদন। তবে সেই ভয় ইডির নয়, বরং অভিষেকের। বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, “ইডি ধরলে অন্তত কথা বলে, জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু অভিষেক কখন কী করবে, কোথায় তাড়িয়ে দেবে, তার কোনও ঠিক নেই।” জেলে থাকার সময়ও দলের পাশে থাকার কথা মনে করিয়ে মদনের আক্ষেপ, “এখন আর শ্বাস নিতে পারছি না।” ইডির তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কোনও দুর্নীতিতে জড়িত না থাকার চ্যালেঞ্জও ছুড়েছেন তিনি।

পাল্টা তোপ মহুয়া মৈত্রের মদন মিত্রের এই দলবদলকে ‘বিজেপির স্ক্রিপ্ট’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর চাঁচাছোলা আক্রমণ, “পরিবারকে ইডি সমন করেছে বলেই মমতাদিকে মেসেজ করেছেন মদন দা। ক্ষমতা ভোগের সময় অভিষেকের ত্রুটি মনে পড়েনি, এখন ইডির নোটিশ পেতেই এসব বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন!”

২১ জুলাইয়ের আগে জোড়া চাপ অন্যদিকে, মদনকে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই যোগদানকে ‘ব্যক্তিগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ২১ জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের ঠিক আগে দলের অন্দরে এই ভাঙন ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন ক্ষোভ জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ইডির চাপ ও দলের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে সামাল দেন, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *