বছরে ১ লক্ষ টাকার বেশি আয়! আপনিও কি হতে পারেন ‘লাখপতি দিদি’? জানুন খুঁটিনাটি

শিল্প ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ পশ্চিম বর্ধমানে নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন। চলতি অর্থবর্ষে জেলার প্রায় ৩৫ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ (Lakhpati Didi) হিসেবে গড়ে তোলার মেগা টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
এই বিরাট লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে ডিস্ট্রিক্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেল (DRDC)। মহিলাদের স্বনির্ভর করার পাশাপাশি তাঁদের আয়ের অঙ্ক কীভাবে বছরে এক লক্ষ টাকার গণ্ডি পার করবে, তার জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ রূপরেখা।
ঋণের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ
প্রশাসন সূত্রে খবর, মহিলাদের ব্যবসা শুরুর সুবিধার্থে চলতি অর্থবর্ষে মোট ৪১৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী মাত্র দু’মাসের মধ্যেই ১২২ কোটি টাকার ঋণ বণ্টন করা হবে।
কীভাবে কাজ করবে প্রশাসন?
বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমানে ১৩ হাজার ১৩৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। এই মহিলাদের শুধুমাত্র ঋণ দেওয়াই প্রশাসনের লক্ষ্য নয়, বরং সেই টাকায় যাতে লাভজনক ব্যবসা তৈরি করা যায়, তার জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
- প্রশিক্ষণ: কোন ব্যবসায় লাভ বেশি, কীভাবে বাজার ধরতে হবে এবং প্যাকেজিং কেমন হবে—সেই বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের।
- সমন্বয়: ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনও অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, তার জন্য ব্যাঙ্কের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে প্রশাসন।
- কর্মশালা: ইতিমধ্যেই আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে মহিলাদের নিয়ে একটি বড় কর্মশালা হয়েছে এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তা জারি রয়েছে।
সাফল্যের খতিয়ান (এক নজরে)
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় গত কয়েক বছরে লাখপতি দিদিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নিচে তার একটি পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| অর্থবর্ষ | ‘লাখপতি দিদি’-র সংখ্যা |
| ২০২৩-২৪ | ২,৩১০ জন |
| ২০২৪-২৫ | ৭,৪৮১ জন |
| গত অর্থবর্ষ | ১১,২২৯ জন |
প্রশাসনের কড়া বার্তা
পশ্চিম বর্ধমান জেলা ডিআরডিসি-র প্রকল্প অধিকর্তা পার্থ দে জানিয়েছেন, উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত সবরকম সরকারি সহায়তা মিলবে। তবে প্রশাসন একটি বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, শুধুমাত্র ঋণ নেওয়ার জন্য ঋণ নিলে চলবে না। সেই অর্থকে কাজে লাগিয়ে সঠিক ও লাভজনক ব্যবসা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।