‘দুর্ঘটনা নয়, মানুষের ভুল!’ বহরমপুরে পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় ৫ মৃত্যু, কড়া তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা কেড়ে নিল ৫টি তাজা প্রাণ। শুক্রবার সকালে কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুরের মাঝে একটি স্কুল পড়ুয়া বোঝাই পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তবে একে নিছক ‘দুর্ঘটনা’ বলতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ‘হিউম্যান এরর’ বা মানুষের চরম গাফিলতি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
কী ঘটেছিল শুক্রবার সকালে? জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ হাওড়া-নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পরই রেলগেট খুলে দেন ডিউটিতে থাকা গেটম্যান। গেট খোলা পেয়ে স্কুল পড়ুয়াদের টাটা সুমো গাড়িটি লাইন পার হতে যায়। ঠিক তখনই তীব্র গতিতে ছুটে আসা নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল সজোরে ধাক্কা মারে পুলকারটিতে। দুমড়েমুচড়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে মারা যান আরও দুজন। পাশাপাশি লাইন পার হতে গিয়ে প্রাণ হারান এক সাইকেল আরোহীও।
গ্রেফতার গেটম্যান, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী খবর পেয়েই গভীর শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কড়া ভাষায় জানান, গেটম্যানের এই গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য। ডিউটি চলাকালীন তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ওই গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছান মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছেন জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার।
পাশে থাকার আশ্বাস এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “সন্তানহারা বাবা-মায়েদের শোক লাঘব করার মতো ভাষা নেই। এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।” রেলের আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি রাজ্য সরকারও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, কোনো ক্ষতিপূরণই এই মৃত্যুর শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না।
বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়েছে।