তৃণমূলের ‘শূন্যস্থানে’ যেন না ঢোকে ‘ভণ্ড’ সিপিএম! বঙ্গ বিজেপিকে কড়া সতর্কবার্তা তথাগতর

রাজ্য রাজনীতিতে এখন বড়সড় পালাবদলের হাওয়া। ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে ঘাসফুল শিবির, আর সেই ‘রাজনৈতিক শূন্যস্থান’ দখলের চেষ্টায় মরিয়া বামেরা। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপিকে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তাঁর সাফ কথা, তৃণমূলের পতনের সুযোগে ‘ভণ্ড’ কমিউনিস্টরা যেন কোনোভাবেই রাজ্যে মাথা চাড়া দিয়ে না ওঠে।
কী বললেন তথাগত রায়? সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে বঙ্গ বিজেপিকে সতর্ক করে তথাগত রায় লেখেন, “তৃণমূলের ইমপ্লোশনের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে যেন সিপিএম ঢুকে না পড়ে সেদিকে বিজেপিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।” বামেদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “কমিউনিস্ট মানেই ভণ্ড, এই সরল কথাটা এখনও বাঙালি হিন্দুদের অনেকের মগজে ঢুকল না!”
তৃণমূলে অব্যাহত ভাঙন বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরে কার্যত মুষলপর্ব চলছে। দল ছাড়ছেন একের পর এক হেভিওয়েট নেতা-সাংসদরা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত হওয়া ‘আসল’ তৃণমূলে প্রতিদিন যোগ দিচ্ছেন বহু নেতা। অন্যদিকে, লোকসভার ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই এনসিপি-তে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যসভার ৩ জন সাংসদ পদত্যাগ করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন এবং কোয়েল মল্লিকও রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে রাজনৈতিকভাবে রীতিমতো কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বামেদের উত্থান ও সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের এই বেহাল দশার সুযোগ নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে সিপিএম। হকার উচ্ছেদ বা বুলডোজার অভিযানের মতো ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করে ফের জনসমর্থন টানতে চাইছে তারা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের থেকে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে ফের সরে যাচ্ছে লাল শিবিরের দিকে। ফলতা বিধানসভা নির্বাচনে তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে; সেখানে ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে তৃণমূল প্রথম থেকে সোজা চার নম্বরে নেমে গেছে এবং সিপিএম উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে।
বামেদের বিরুদ্ধে বেলাগাম আক্রমণ সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে সিপিএমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তথাগত রায়। তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, “কমিউনিস্টরা মুসলমানের ভোটের জন্য আধ হাত জিভ বার করে ল্যা ল্যা করে।” নিজের বক্তব্যে তিনি বিকাশ ভট্টাচার্যের গরুর মাংস খাওয়া এবং ২০০৯ সালে মহম্মদ সেলিমের হনুমানজির চরণামৃত খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বামেদের রাজনৈতিক ‘ভণ্ডামি’-র তীব্র সমালোচনা করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মাদ্রাসা সংক্রান্ত পুরোনো মন্তব্যও উঠে আসে তাঁর এই বার্তায়।