তৃণমূলের অন্দরে দড়ি টানাটানি! ২১ জুলাইয়ে ব্রাত্য সোনারপুরের শহিদ পরিবার

তৃণমূলের অন্দরে দড়ি টানাটানি! ২১ জুলাইয়ে ব্রাত্য সোনারপুরের শহিদ পরিবার

রাজ্যে পালাবদলের পর সম্পূর্ণ পালটে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। ক্ষমতা হারানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এখন কার্যত বিভক্ত। একদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’। সঙ্গে রয়েছে এনসিপিআই এবং কংগ্রেসও। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই আসন্ন ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ পালন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র দড়ি টানাটানি। আর এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে এবার একুশে জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে ব্রাত্য রয়ে গেল সোনারপুরের শহিদ রতন মণ্ডলের পরিবার।

কী বলছেন শহিদের স্ত্রী? ৩২ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন সোনারপুরের যুব কংগ্রেস কর্মী রতন মণ্ডল। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছরই নিয়ম করে তাঁর পরিবারের কাছে শহিদ দিবসের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে যেত। কিন্তু এবার ছবিটা একেবারেই আলাদা। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, অথচ এখনও পর্যন্ত কোনও ডাক পাননি তাঁরা।

শহিদ রতন মণ্ডলের স্ত্রী মহারানি মণ্ডল হতাশার সুরে বলেন, “এখনও তো আমন্ত্রণপত্র আসেনি। ডাক পাব কি না, বুঝতে পারছি না। এমন তো কখনও হয়নি!” তবে তিনি এখনও আশাবাদী। তাঁর কথায়, “আমরা প্রথম দিন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি। যতবার ধর্মতলায় শহিদ দিবস হয়েছে, ততবারই তাঁর ডাকে পরিবার নিয়ে ছুটে গিয়েছি। এবারও ডাক পেলে নিশ্চয়ই যাব। আমরা চাই দলের সবাই এক হয়ে থাকুক।”

অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার ১৯৯৩ সালের সেই কালো দিনে মাঠের কাজ সেরে মহাকরণ অভিযানে গিয়ে আর ফেরেননি রতন মণ্ডল। পরের দিন বাইশে জুলাই বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজাখুঁজির পর তাঁর মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসে পরিবার। সেই থেকে স্বামীর ছবি বুকে আঁকড়েই দিন কাটান মহারানি দেবী। প্রতি বছর এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় থাকেন তিনি। কিন্তু এবারের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের অন্দরের দ্বন্দ্বে ধর্মতলার মঞ্চে তাঁদের জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তায় ভুগছে শহিদ পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *