পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ‘গণহত্যা’! পাকিস্তানের কাছে প্রতিটি মৃত্যুর কড়া হিসেব চাইল রাষ্ট্রসংঘ

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে পাকিস্তানি সেনার নারকীয় তাণ্ডব নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল রাষ্ট্রসংঘ। বিক্ষোভ দমাতে গিয়ে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, পাকিস্তান সরকারের কাছে অবিলম্বে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- রাষ্ট্রসংঘের কড়া বার্তা: রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক জেনেভা থেকে এক বিবৃতিতে সেনা অভিযানে প্রতিটি মৃত্যুর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
- কমিটি নিষিদ্ধ করার নিন্দা: অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-কে নিষিদ্ধ করেছে পাক সরকার। রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, নাগরিক সমাজের কোনো সংগঠনকে এভাবে অপরাধী তকমা দেওয়া মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
- ইন্টারনেট ও আইনি সহায়তা: অবিলম্বে ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং ধৃত নেতাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া ও আইনি সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন জ্বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর? অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধি, লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারের দমনপীড়নের প্রতিবাদে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর। ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’-র নেতৃত্বে টানা প্রতিবাদ মিছিল করছেন সাধারণ মানুষ।
কিন্তু এই বিদ্রোহ দমাতে পাক রেঞ্জার্স ও পুলিশবাহিনী চরম নৃশংসতার আশ্রয় নিয়েছে। অভিযোগ, লস্কর-ই-তৈবার মতো একাধিক জঙ্গি সংগঠনকেও বিক্ষোভ দমনে কাজে লাগাচ্ছে পাকিস্তান। সেনা ও পুলিশের গুলিতে জুন মাস থেকে বহু বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। গুম ও খুনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, পাক সেনার এই অমানবিক অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী ভারতের কাছেও সাহায্যের কাতর আরজি জানিয়েছেন অধিকৃত কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ।