মহুয়াকে ডিম, কল্যাণের গাড়ির চাকা পাংচার! ‘আতঙ্কে আছি’, পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার অভিযোগ উঠছিল। এই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এবার কলকাতা হাইকোর্টে বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য পুলিশের পেশ করা রিপোর্ট কার্যত চ্যালেঞ্জ করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল নেতাদের উপর হামলা অব্যাহত, অথচ পুলিশ অভিযোগ পর্যন্ত নিতে চাইছে না!
খবরের মূল হাইলাইটস:
- রাজ্যের রিপোর্ট: ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানান, ৩০ জুনের পর থেকে কড়া পদক্ষেপের ফলে ডিম ছোঁড়ার ঘটনা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
- কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ: রাজ্যের এই দাবি পত্রপাঠ উড়িয়ে দেন কল্যাণবাবু। তিনি আদালতে জানান, সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়েছে এবং থানায় গিয়েও কোনও অভিযোগ জানানো যাচ্ছে না।
- ‘চোর’ স্লোগান ও আতঙ্ক: চরম আক্ষেপের সুরে কল্যাণবাবু আদালতে জানান, গ্রামে তাঁর নিজের গাড়ির চাকা পাংচার করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে আদালতে দাবি করেন এই তৃণমূল সাংসদ।
কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট?
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজ্য পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্টের কপি মামলাকারীদের দিতে হবে। এর প্রেক্ষিতে মামলাকারী পক্ষকে একটি হলফনামা (Affidavit) জমা দিতে হবে।
এই হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে:
- ৩০ জুনের পর ঠিক কোথায় কোথায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
- পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসন ঠিক কী ব্যবস্থা নিয়েছে।
আগামী ১৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে আদালত। পালটা হলফনামা খতিয়ে দেখেই হাইকোর্ট পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। রাজ্যের দাবি এবং শাসক দলেরই সাংসদের এই পালটা অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।