‘কথা দিয়েও কথা রাখলেন না রাহুল!’ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে তুলকালাম, আটক খাড়গে-প্রিয়াঙ্কা

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। মঙ্গলবার ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গের সামনে বিক্ষোভ দেখান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ শীর্ষ নেতারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাস্তায় নেমে আসেন পিএমও-র প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। কিন্তু তাঁর সঙ্গে রাহুলের উত্তপ্ত কথোপকথনের পরই পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- হেভিওয়েট ধর্না: রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব এবং সুপ্রিয়া সুলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে বসেন।
- মন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের অভিযোগ, সরকার সংসদে নিট নিয়ে আলোচনায় রাজি হলেও রাহুল হঠাৎই দাবি বদলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে বসেন।
- পুলিশের কড়া অ্যাকশন: বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে রাহুল ও খাড়গেকে টেনেহিঁচড়ে আটক করে বাসে তোলে দিল্লি পুলিশ।
কী কথা হল মন্ত্রী ও রাহুলের? সোমবার পরীক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজাজী মার্গ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে মেগা পদযাত্রা শুরু করে ইন্ডিয়া জোট। ধর্নামঞ্চে আচমকাই উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। রাস্তার ওপর বসেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর কিছুক্ষণ কথা হয়। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মন্ত্রী অভিযোগ করেন, কথা দিয়েও কথা রাখেননি রাহুল। আগে তিনি কেবল আলোচনার দাবি জানালেও, সরকার রাজি হওয়ার পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
কংগ্রেসের পালটা আক্রমণ কংগ্রেস নেতৃত্ব সরকারের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে অভিযোগ তুলে, ধর্নামঞ্চ থেকেই খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন রাহুল গান্ধী। শিক্ষা মন্ত্রীর ইস্তফা ছাড়া এই লড়াই থামবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদরা।
আটক বিরোধী নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দিল্লি পুলিশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রাহুল গান্ধী-সহ সমস্ত বিরোধী নেতাকে জোরপূর্বক আটক করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সংলগ্ন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে।