মাকে খুন করে চিতাবাঘের ঘাড়ে দোষ! পুলিশের জেরায় ফাঁস পাষণ্ড ছেলের সাজানো নাটক

উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। পারিবারিক অশান্তির জেরে নিজের জন্মদাত্রী মাকে শ্বাসরোধ করে খুন করল এক যুবক। শুধু তাই নয়, পুলিশ ও গ্রামবাসীদের চোখে ধুলো দিতে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘চিতাবাঘের আক্রমণ’ বলে চালিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে সে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের তৎপরতায় শেষমেশ ফাঁস হয়ে যায় এই নিখুঁত সাজানো নাটক।
যেভাবে ছড়াল চিতাবাঘের গুজব বিজনোরের হিমপুর দীপা থানার অন্তর্গত অভিপুর জাট গ্রামের বাসিন্দা বিরো দেবী। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যুতে গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, জঙ্গলে তাঁকে একটি হিংস্র চিতাবাঘ আক্রমণ করেছে। এলাকায় আগে থেকেই বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক থাকায় সাধারণ মানুষ সহজেই সেই গল্প বিশ্বাস করে নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ময়নাতদন্তে মোড় ঘুরল তদন্তের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসতেই চিকিৎসকদের সন্দেহ হয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। পুলিশ নড়েচড়ে বসে এবং নতুন করে সূত্র মেলাতে শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন মৃতার ছোট ছেলে বাহার সিংয়ের আচরণ ও গতিবিধি পুলিশের কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হয়।
জেরার মুখে ভেঙে পড়ল ছেলে সন্দেহের বশে বাহার সিংকে আটক করে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। টানা জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয় সে। বাহার জানায়, প্রতিদিনের পারিবারিক অশান্তি ও ঝগড়ায় তিতিবিরক্ত হয়েই রাগের মাথায় সে মাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। এরপর অপরাধ ঢাকতে এবং পুলিশের নজর এড়াতে এলাকায় চিতাবাঘের উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলার মিথ্যা গল্প রটিয়ে দেয়।
চাঁদপুর থানার আধিকারিক দেশদীপক সিং জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ছেলেকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ।