১৮ দিনেই মোহভঙ্গ! ‘গ্রেপ্তারের হুমকি’-র অভিযোগ তুলে কামারহাটির চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা লকেটের দাদার

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৮ দিনের মাথায় কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি সম্পর্কে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা। মঙ্গলবার মহকুমাশাসক ও পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি।
কেন এই আকস্মিক পদত্যাগ?
সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁকে সমর্থন করা কাউন্সিলরদের মিথ্যে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে একে একে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি:
- গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন।
- প্রশাসনের তরফ থেকে পদে পদে চরম অসহযোগিতা করা হচ্ছিল।
- বাধ্য হয়েই তিনি চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কামারহাটি পুরসভার বর্তমান সমীকরণ:
- কামারহাটি পুরসভার মোট ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩ জন নির্দল এবং বাকিরা তৃণমূলের (২ জন কাউন্সিলরের এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে)।
- রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ১২ জুন তৎকালীন চেয়ারম্যান গোপাল সাহা ইস্তফা দেন।
- এরপর গত ৩ জুলাই সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরের সমর্থনে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর এই দ্রুত পদত্যাগে পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হল।
১৮ দিনের কাজের খতিয়ান
পদত্যাগ করলেও এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি সুশান্তবাবুর। এর মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক পারিশ্রমিক ৫০ টাকা ও মাসিক ভাতা ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি, মেট্রো কলোনির বাসিন্দাদের জমির মিউটেশনের মতো আটকে থাকা কাজও তিনি শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
বিজেপির কটাক্ষ
পুরসভার এই ডামাডোল পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা অরূপ চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেন, “চোরেদের সার্কাস নিয়ে আমাদের কোনও উৎসাহ নেই।”