‘দলকে শেষ করবে কালীঘাট সূত্র!’ একুশের মঞ্চ ছাড়ার জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক কল্যাণ

একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের মঞ্চে হঠাৎই বক্তব্য থামিয়ে নেমে গিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয় জোর জল্পনা। কেউ বলেন সাংসদ দলের উপর বিরক্ত, কারও মতে তিনি অসুস্থ। অবশেষে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে মঙ্গলবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে বিস্ফোরক দাবি করলেন কল্যাণ।
মঞ্চে ঠিক কী ঘটেছিল? নিজের ফেসবুক পোস্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য মাঝপথে থামানো বা মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে যে জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি লেখেন, নির্দিষ্ট সময়ে তালিকায় থাকা বক্তারা (প্রিয়ঙ্কা অধিকারী ও উপাসনা) না আসায় বাধ্য হয়েই তাঁকে বক্তব্য শুরু করতে হয়েছিল। এরপর মঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছলে, তাঁদের স্বাগত জানাতে তিনি নিজেই বক্তব্য থামান। পরে দলনেত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি ফের তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। এখানে ক্ষোভ বা অভিমানে মঞ্চ ছাড়ার কোনো বিষয়ই ছিল না।
নিশানায় ‘কালীঘাট সূত্র’ এই পোস্টেই নাম না করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কল্যাণ। সংবাদমাধ্যমে দলের খবর ফাঁস হওয়ার যে ‘কালীঘাট সূত্র’-এর কথা বলা হয়, তাকেই নিশানা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “গত দু’মাসে ভয়ে বহু নেতা জেলার কর্মীদের কাছে যাননি। অথচ আমি নিজে একাধিক জেলায় গিয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করেছি।” সাংসদের দাবি, ‘কালীঘাট সূত্র’-এর নাম করে তাঁর বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং এই সূত্রই একদিন দলকে শেষ করে দেবে।
দলের অন্দরে নতুন সমীকরণ মঙ্গলবার মঞ্চে বক্তব্য শেষ করার পর কল্যাণকে বেশ অস্থির দেখাচ্ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয় এবং রীতিমতো রাগের সুরেই তাঁকে কিছু বলতে শোনা যায়। কুণাল ঘোষ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলেও, কল্যাণ নেত্রীকে কিছু জানিয়ে মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
তবে কল্যাণের এই ফেসবুক পোস্টের পর দলের অন্দরের ফাটল আরও কিছুটা প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর এই পোস্টকে সমর্থন করে তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে কটাক্ষ করেছেন এবং সরাসরি আঙুল তুলেছেন দোলা সেনের দিকে। একুশের মঞ্চের এই ঘটনা যে আপাতত রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।