সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মৃত্যুমিছিল! উদ্ধার ২০ জনের দেহ, মৃতদের অধিকাংশই বাংলার

সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মৃত্যুমিছিল! উদ্ধার ২০ জনের দেহ, মৃতদের অধিকাংশই বাংলার

সিকিমের নামচি জেলায় নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধস। তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জন শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫ জন।

খবরের হাইলাইটস:

  • মৃতের সংখ্যা: ধসে আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
  • বাংলার শ্রমিক: নিহতদের মধ্যে ৯ জন জলপাইগুড়ির এবং ২ জন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা।
  • দুর্ঘটনার কারণ: সুড়ঙ্গের ভেতর জমে থাকা মিথেন গ্যাসে আচমকা বিস্ফোরণ থেকেই এই ধস বলে প্রাথমিক অনুমান।
  • ক্ষতিপূরণ: মৃতদের পরিবার পিছু সিকিম সরকারের তরফে ৪ লক্ষ এবং কেন্দ্রের তরফে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে।

কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?

সোমবার দুপুরে সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় এনএইচপিসি-র (NHPC) তিস্তা স্টেজ-VI জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকাই ধস নামে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের জেরে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে আটকে যায়। প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, সুড়ঙ্গের ভেতর জমে থাকা মিথেন গ্যাসে বিস্ফোরণের জেরেই এই ভয়াবহ ধস নামে এবং ভেতরে আটকে পড়েন অন্তত ২৭ জন কর্মী ও শ্রমিক।

উদ্ধারকাজে পদে পদে বাধা মিথেনের বিষ

দুর্ঘটনার পর থেকেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং দমকলের যৌথ উদ্ধারকাজ চলছে। তবে উদ্ধারকারী দলকে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতর জমে থাকা তীব্র মিথেন গ্যাসের কারণে উদ্ধারকারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ জ্ঞানও হারিয়ে ফেলছেন। এছাড়া, ভেতরে পাথর ও কাদার স্তূপ এবং ফের ধস নামার আশঙ্কা থাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে এগোতে হচ্ছে বাহিনীকে।

শোকের ছায়া উত্তরবঙ্গে

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ২০টি মৃতদেহের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। এঁদের মধ্যে ১১ জনই পশ্চিমবঙ্গের। ৯ জন জলপাইগুড়ির (মেটেলি ও বিন্নাগুড়ি) এবং ২ জন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা। এছাড়া একজন পাঞ্জাব এবং একজন সিকিমের বাসিন্দা রয়েছেন। নিখোঁজ ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন কেরালার ৪৩ বছর বয়সী জিওলজিস্ট অনীশ মোহন।

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারী বীণাজল জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফে সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ক্ষতিপূরণ ও সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ

  • প্রধানমন্ত্রীর শোক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
  • রাজ্যের সাহায্য: সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
  • তদন্ত কমিটি: এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে সিকিম সরকারের তরফে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনএইচপিসি-র শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তদারকি করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *