বুকে ব্যথা নয়, হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর দেয় এই ৩টি নিঃশব্দ সঙ্কেত! আজই সতর্ক হোন

বুকে ব্যথা নয়, হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর দেয় এই ৩টি নিঃশব্দ সঙ্কেত! আজই সতর্ক হোন

বিশ্ব জুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদরোগ। আমাদের একটা সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, বুকে বা বাঁ হাতে তীব্র ব্যথাই হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ। কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, বড় কোনও বিপদ ঘটার অনেক আগেই আমাদের শরীর অত্যন্ত গোপনে কিছু সঙ্কেত দেয়। সচেতনতার অভাবে আমরা প্রায়শই সেগুলোকে ‘বয়স বাড়ছে’ বা ‘ক্লান্তি’ ভেবে এড়িয়ে যাই। এই ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’-এর লক্ষণগুলো আগে থেকে চিনতে পারলে অকালমৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ৩টি নিঃশব্দ সঙ্কেত:

  • ১. পুরুষদের শারীরিক বা যৌন দুর্বলতা: হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রায় ৫ বছর আগেই অনেক পুরুষের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেনাইল আর্টারির মতো শরীরের ছোট ধমনীগুলোতে রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে এই সমস্যা তৈরি হয়, যা আসলে হৃৎপিণ্ডের মূল ধমনীতে (Coronary Artery) ব্লকেজ বা রক্ত চলাচলে বাধার প্রাথমিক ইঙ্গিত। তাই সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া এমন সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • ২. সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা: অল্প সিঁড়ি ভাঙলে বা ঘরের ছোটখাটো কাজ করলেই কি দম আটকে আসে? অনেকেই একে ‘ফিটনেস কমে যাওয়া’ বা দুর্বলতা ভাবেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ডিসপনিয়া’ (Dyspnoea) বলে। এর অর্থ, আপনার হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারছে না এবং ফুসফুসের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
  • ৩. পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া: টানা বসে থাকলে বা জার্নি করলে পা সামান্য ফুলতে পারে। কিন্তু ক্রমাগত পা বা গোড়ালিতে ফ্লুইড বা জল জমতে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর মানে হলো, আপনার হৃদযন্ত্র ঠিকমতো রক্ত সারা শরীরে সরবরাহ করতে পারছে না। এটি ‘হার্ট ফেলিয়র’ বা হার্ট দুর্বল হওয়ার অন্যতম নীরব লক্ষণ।

কী করবেন? হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই লক্ষণগুলোকে নিছক বার্ধক্য বা সাধারণ ক্লান্তি বলে অবহেলা করা উচিত নয়। উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ইসিজি (ECG), ইকো (ECHO) বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিন। প্রাথমিক সঙ্কেত পেয়ে সঠিক সময়ে লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে বড়সড় বিপদের হাত থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *