নিট-বিতর্কে ধুন্ধুমার! মোদীর বাসভবনে রাহুলের বিক্ষোভ, মাঝরাতে চরম বিস্ফোরক শিক্ষামন্ত্রী

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্কে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়াল কেন্দ্র ও বিরোধী শিবির। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আর এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, মঙ্গলবার গভীর রাতে এক্স (X) হ্যান্ডেলে কংগ্রেস ও রাহুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- হাইপ্রোফাইল বিক্ষোভ ও আটক: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদব। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।
- মাঝরাতে রাহুলের তোপ: রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে এক ভিডিও বার্তায় দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন রাহুল। পড়ুয়া ও সিজেপি (CJP) সদস্যদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন তিনি।
- শিক্ষামন্ত্রীর পাল্টা আক্রমণ: রাহুলের বার্তার পরই আসরে নামেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে নিরীহ পড়ুয়াদের ঢাল করছে কংগ্রেস।
পড়ুয়াদের ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ করার অভিযোগ
মঙ্গলবার গভীর রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সরাসরি রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন। তিনি লেখেন, সংসদের চলতি বাদল অধিবেশন ভেস্তে দিতেই নির্লজ্জভাবে পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকার সবরকম আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও বিরোধীরা কেবল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এই নজিরবিহীন বিক্ষোভ দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলেও কড়া মন্তব্য করেন তিনি।
রাহুলের দাবি বনাম সরকারের অবস্থান
এর আগে নিজের ভিডিও বার্তায় রাহুল অভিযোগ করেছিলেন যে, সংসদ অভিযান রুখতে দিল্লি পুলিশ সাধারণ পড়ুয়াদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে। এর দায় নিয়ে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে সরব হন তিনি।
এর কড়া জবাবে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে দেন যে, দেশের পড়ুয়ারা রাস্তায় নেমে স্লোগানবাজি বা অশান্তি চায় না, তারা চায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও স্বচ্ছ সংস্কার। আর সরকার সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।