‘আমাদের শেষ করে আপনাদেরও করবে’, বিজেপিকে রুখতে বাম-কংগ্রেসের কাছে ঐক্যের ডাক মমতার!
পনেরো বছরের তৃণমূল জমানার অবসানের পর বাংলায় এবার বিজেপিকে রুখতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই লক্ষ্যেই পুরোনো রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে রেখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক বাম ও কংগ্রেসকে একজোট হয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানালেন তিনি। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ও বিধান ভবন।
ঠিক কী বলেছেন মমতা? মঙ্গলবার ক্যাথিড্র্যাল রোডে আয়োজিত ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, “আমার কারও প্রতি কোনও ইগো বা ক্ষোভ নেই। আসুন, সারা ভারতের মতো বাংলাতেও ইন্ডিয়া জোট নিয়ে লড়াই করি।”
বামেদের নাম না করে তিনি সতর্কবার্তার সুরে বলেন, “বিজেপির কথায় যাঁরা এখন দলীয় অফিস খুলছেন বা মিটিং–মিছিল করছেন, মনে রাখবেন আমাদের শেষ করার পর ওরা আপনাদেরও শেষ করবে। বিবেক জাগ্রত থাকলে সবার এক হয়ে লড়াই করা দরকার।” এদিন নিজের বক্তব্যের সমর্থনে নাট্যকার চন্দন সেনের একজোট হওয়ার একটি সাম্প্রতিক ভিডিয়ো বার্তাকেও তুলে ধরেন মমতা।
কী প্রতিক্রিয়া বাম ও কংগ্রেসের? মমতার এই ঐক্যের ডাক কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী দুই শিবির। তারা তৃণমূল নেত্রীর অতীত রাজনৈতিক অবস্থানকেই হাতিয়ার করেছে।
- সিপিএমের কড়া জবাব: সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কড়া ভাষায় বলেন, “বিজেপির প্রত্যক্ষ সাহায্যেই ১৯৯৮ সালে তৃণমূল তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই বাংলায় বিজেপিকে ডেকে এনেছেন। বামপন্থীরা নিজেদের লড়াইয়ের জোরে পার্টি অফিস খুলছে, কারও দয়ায় নয়। বিজেপিকে বামপন্থীরাই রুখবে।”
- কংগ্রেসের অবস্থান: শহিদ মিনারের সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও মমতার প্রতি কোনও নরম মনোভাব দেখাননি। তিনি স্পষ্ট জানান, জোটের যেকোনো সিদ্ধান্ত দলের হাইকম্যান্ড নেয়। পাশাপাশি তাঁর কটাক্ষ, “বিজেপির বিরুদ্ধে একমাত্র লড়াই করছেন রাহুল গান্ধীই। মমতা যখন কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল তৈরি করেন, তখন পিছনে বিজেপি ছিল। আজ তৃণমূল ভেঙে যে হাইব্রিড পার্টি তৈরি হয়েছে, তার পিছনেও বিজেপিই রয়েছে।”
রাজনৈতিক মহলের মত: বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূল ব্যাকফুটে চলে যাওয়ায় রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছেন মমতা। কিন্তু বাম ও কংগ্রেসের এই অনড় মনোভাবে বিরোধী ঐক্যের পথ যে একেবারেই মসৃণ নয়, তা মঙ্গলবারের ঘটনাক্রমেই স্পষ্ট হয়ে গেল।