সুগার কমাতে রোজ জাম বা বীজের গুঁড়ো খাচ্ছেন? চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা জানলে চমকে যাবেন!

মিষ্টি ও রসালো ফল জাম খেতে কে না ভালোবাসে! ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং আয়রনে ভরপুর এই ফলটি নিয়ে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। অনেকেই মনে করেন, নিয়মিত জাম বা এর বীজের গুঁড়ো জলে মিশিয়ে খেলেই রক্তে শর্করার মাত্রা ম্যাজিকের মতো কমে যাবে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ঠিক কী বলছে? সত্যিই কি জাম খেলে সুগার কমে?
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? কৈলাশ দীপক হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি কনসালটেন্ট ডাঃ নিশান্ত জৈন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম বা বেরি জাতীয় ফল অবশ্যই উপকারী, তবে এটি কোনো জাদুকরী নিরাময় নয়! এটি কখনোই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প হতে পারে না। একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হিসেবেই এটিকে গ্রহণ করা উচিত।
কীভাবে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে জাম?
- হঠাৎ সুগার বাড়ায় না: জামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত্যন্ত কম এবং এতে প্রচুর ফাইবার থাকে। ফলে অন্যান্য মিষ্টি ফলের মতো এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে লাফিয়ে বাড়ে না।
- ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘ইনসুলিন’-এর কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এই ফল।
- শর্করা রূপান্তরে বাধা: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শ্বেতসার বা স্টার্চকে চিনিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় জাম।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের খনি: জামে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং জাম্বোলিনের মতো প্রাকৃতিক যৌগ, যা ডায়াবেটিস রোগীদের কোষের ভেতরের ক্ষতি (অক্সিডেটিভ স্ট্রেস) থেকে রক্ষা করে।
সাবধানতা: কখন ও কীভাবে খাবেন না?
ফল উপকারী বলে ইচ্ছেমতো বেশি পরিমাণে খাওয়া কখনোই উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে:
- অতিরিক্ত খেলে বিপদ: বেশি মাত্রায় জাম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা বা হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।
- খালি পেটে নৈব নৈব চ: একদম খালি পেটে জাম বা বেরি জাতীয় ফল খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
- দুধের সাথে খাবেন না: দুধ বা কোনো দুগ্ধজাত খাবারের সাথে জাম মেশানো শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: আপনি যদি আগে থেকেই ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের কড়া ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কোনো পরিবর্তনের আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিন।