“সরকার চালাবেন, বিরোধীও পুষবেন!” বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ

বুধবারের পর বৃহস্পতিবার—টানা দু’দিন ধরে উত্তাল রইল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। এদিনও বিধানসভার অন্দরে অধ্যক্ষের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়াতে দেখা যায় শাসকদলের বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। বিধানসভা চত্বর থেকে বেরিয়ে এসে নিজের দলের অন্দরের সমীকরণ এবং একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সরাসরি বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।
চলতি বিধানসভা অধিবেশনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ কুণাল ঘোষের?
বিধানসভার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিন কুণাল ঘোষ বলেন, “একের পর এক দিন যে ঘটনাগুলি ঘটছে, নির্ধারিত বক্তব্যের জন্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আমার নাম দিচ্ছেন, আর আখরুজ্জামানরা সেই নাম কেটে দিচ্ছেন। অর্থাৎ আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার পক্ষ চাইছে তারা একদিকে সরকার চালাবে, আবার অন্যদিকে বিরোধীও পুষবে।”
বুধবারের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল বিধায়ক আরও জানান যে, পুলিশের বাজেটে সন্ত্রাস সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে এলেও তাঁকে বলতে দেওয়া হয়নি। কারণ জানতে যাওয়ায় তাঁর ওপর দমনপীড়ন চালানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত মার্শাল দিয়ে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাকে আটকানোর এবং বাদ দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত চলছে। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমার ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে এখন উল্টে বলা হচ্ছে কলঙ্কজনক ঘটনা! আমি কারও গায়ে হাত দিইনি, কারও ডেস্ক বা মাইক স্পর্শ করিনি। উল্টে আমার ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে।”
আগামীকালের অধিবেশন নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি
আগামীকালের বিধানসভার অধিবেশন প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, “আগামীকাল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বাজেট রয়েছে। দলের তরফ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আবারও আমার নাম প্রস্তাব করেছেন এবং আমাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। অন্যদিকে, আখরুজ্জামানবাবু শোভনদেববাবুকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অন্য যে কারও নাম দেওয়া হোক না কেন, কুণাল ঘোষকে কিছুতেই বলতে দেওয়া হবে না। এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র হচ্ছে?” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে।
বিধানসভায় আজকের বিতর্ক
অন্যদিকে, এদিন বিধানসভায় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের বাজেট বক্তৃতার ঠিক আগেই গতকালের অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে অধ্যক্ষ সেই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন।
অধ্যক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গতকালের ঘটনা নিয়ে তিনি আর কোনও আলোচনা শুনতে রাজি নন। তিনি মন্তব্য করেন, “গতকালের বিষয় নিয়ে আর কোনও আলোচনা হবে না। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার হয়ে গেছে। বিধানসভার ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং এটি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। দয়া করে বিষয়টি আর পুনরাবৃত্তি করবেন না।”
অধ্যক্ষের এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পাল্টা জানান যে অতীতেও এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। এরপরই নিজের আসন ছেড়ে অধ্যক্ষের ডায়াসের কাছে চলে যান কুণাল ঘোষ। গতকালের ঘটনার সাফাই দিয়ে তিনি অনুরোধের সুরে বলেন, “আমি কাউকে কোনও ধাক্কাধাক্কি করিনি। আপনি ‘কলঙ্ক’ শব্দটা স্যার ঠিক বলেননি।”