ড্রাগনের ঘুম ওড়াতে প্রস্তুত ভারতের ‘কুশা’! আকাশ প্রতিরক্ষায় সফল দেশীয় প্রযুক্তির ঐতিহাসিক পরীক্ষা

ড্রাগনের ঘুম ওড়াতে প্রস্তুত ভারতের ‘কুশা’! আকাশ প্রতিরক্ষায় সফল দেশীয় প্রযুক্তির ঐতিহাসিক পরীক্ষা

নতুন দিল্লি: দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। সফলভাবে সম্পন্ন হলো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম বা ‘কুশা’ (Kusha)-র প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ওড়িশার উপকূলে অবস্থিত ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে এই সফল পরীক্ষা চালায়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, উৎক্ষেপণের সময় একটি উচ্চ-গতির এবং উচ্চ-উড্ডয়নক্ষম কৃত্রিম হুমকিকে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেয় কুশা ক্ষেপণাস্ত্র। এই প্রথম দফার পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি এর উন্নত রাডার, কমান্ড সেন্টার এবং অন্যান্য সহায়ক প্রযুক্তিগুলোও সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।

কী এই ‘কুশা’ মিসাইল সিস্টেম?

ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কুশা’ হলো একটি অত্যাধুনিক দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দেশের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা যেকোনো শত্রুর হুমকিকে আগেভাগেই সনাক্ত করে তা ধ্বংস করাই এর প্রধান কাজ। এই সিস্টেমটি যে সমস্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিমেষে ধ্বংস করতে সক্ষম:

  • শত্রু দেশের ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমান
  • বিভিন্ন ধরনের ক্রুজ ও ব্যালেস্টিক মিসাইল
  • শত্রুর চালকবিহীন ড্রোন বা ইউএভি (UAV)
  • বড় আকারের সার্ভেইলেন্স বা নজরদারি বিমান

সহজ কথায়, এটি পুরো দেশের আকাশ সুরক্ষায় এক দুর্ভেদ্য ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

কেন এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রথম ফ্লাইট টেস্ট হলো সবচেয়ে বড় ধাপ। ল্যাবরেটরি বা কম্পিউটারের সিমুলেশনের বাইরে বাস্তবে এর ডিজাইন কতটা নিখুঁত, তা এর মাধ্যমেই যাচাই করা হয়।

এদিনের পরীক্ষায় অত্যন্ত দ্রুতগামী এবং উঁচুতে ওড়া লক্ষ্যবস্তুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন। তবে সমস্ত চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে ডিআরডিও-র তৈরি এই মিসাইল সফলভাবে তার লক্ষ্যবস্তু ভেদ করেছে।

বিদেশ নির্ভরতা কমাতে ভারতের বড় পদক্ষেপ

এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ডিআরডিও এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বে খুব কম সংখ্যক দেশেরই নিজস্ব প্রযুক্তিতে দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে।

‘কুশা’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিদেশি অস্ত্রের ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে, যা দেশের সুরক্ষাকে আরও কয়েক ধাপ মজবুত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *