এসএসসির বড় পদক্ষেপ: ৩০ জুলাই থেকে ভেরিফিকেশন শুরু, কিন্তু কোন ফাঁদে বিপাকে পড়লেন যোগ্য শিক্ষকরা?

এসএসসির বড় পদক্ষেপ: ৩০ জুলাই থেকে ভেরিফিকেশন শুরু, কিন্তু কোন ফাঁদে বিপাকে পড়লেন যোগ্য শিক্ষকরা?

নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক বড় পদক্ষেপ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে প্রার্থীদের নথি যাচাই বা ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোতে শুরু করায় একাংশের মুখে হাসি ফুটলেও, নতুন এই সূচি ঘিরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা।

জটিলতার মূল কারণ:

এসএসসি-র প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের প্রার্থীদের নথি যাচাই ৩০ জুলাই থেকে শুরু হবে। মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া প্রার্থীদের নির্দিষ্ট দিনে সমস্ত আসল নথি নিয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে ভেরিফিকেশনের সময়সীমা নিয়ে। সমস্ত প্রার্থীর নথি যাচাইয়ের কাজ আগস্ট মাসের মধ্যে শেষ হচ্ছে না; বরং বহু প্রার্থীর ভেরিফিকেশনের তারিখ গড়িয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে।

এখানেই দানা বেঁধেছে আসল বিপত্তি:

  • সময়সীমার টানাপোড়েন: সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, চাকরি হারানো প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর মধ্যে যাঁদের ‘যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁরা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকার এবং বেতন পাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।
  • সেপ্টেম্বরের ভেরিফিকেশন: যে সমস্ত প্রার্থীর ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের তারিখ সেপ্টেম্বরে নির্ধারণ করা হয়েছে, তাঁদের ৩১ আগস্টের পর চাকরির বৈধতা, আইনি স্থিতি এবং বেতন পাওয়া নিয়ে বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

কমিশন ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া:

এই জটিলতা নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে প্রার্থী এবং শূন্যপদের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। সমস্ত দিক বিবেচনা করে এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে কমিশন।

অন্যদিকে, চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকরা দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রাকেশ আলম নামে এক যোগ্য শিক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আদালতের নির্দেশমতো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ না হলে আগস্টের পর তাঁরা ফের নতুন আইনি ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়বেন। রাজ্য সরকার এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়ে সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে নিক—এমনটাই দাবি জানিয়েছেন তাঁরা, যাতে কোনো যোগ্য শিক্ষকের চাকরি ও জীবিকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *