‘পড়ুয়াদের দেশের শত্রু ভাবছে কেন্দ্র!’ নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে মোদী সরকারকে তুলোধনা সোনিয়ার

দেশজুড়ে নিট পরীক্ষা এবং প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে চলা ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে তাদের ওপর বলপ্রয়োগ করছে সরকার। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে না দেখে বরং “শত্রুর” মতো দেখা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
দমনপীড়ন ও ২০ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ: সনিয়ার বক্তব্য, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নফাঁস ও ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সংলাপের রাস্তায় না হেঁটে সরকার কঠোর হাতে তা দমন করতে চাইছে। বিশেষ করে ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি একে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক “কালো অধ্যায়” ও “কলঙ্কের দিন” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সেদিন দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পড়ুয়াদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। কুস্তিগির আন্দোলন কিংবা সিএএ-বিরোধী প্রতিবাদের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অনাগত চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার বদলে বারবার দমনমূলক নীতি নিয়েছে প্রশাসন।
শিক্ষা ব্যবস্থার বেসরকারিকরণ ও এনটিএ-কে নিশানা: শুধু আন্দোলন দমনের অভিযোগই নয়, দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন সনিয়া গান্ধী। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে স্কুলশিক্ষায় সরকারি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষায় ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রায় এক লক্ষ সরকারি স্কুল বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বহু বেসরকারি স্কুল ও কোচিং সেন্টার ফুলেফেঁসে উঠেছে। এমনকী, শুধু নিট পরীক্ষার কোচিংয়ের পেছনে অভিভাবকদের যে খরচ হয়, তা সরকারি শিক্ষাখাতে সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় সমান!
পাশাপাশি, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-এর কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সনিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে দেশে ১৫২টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে এনটিএ গঠনের পরই ঘটে অন্তত ৯টি ঘটনা। সংস্থাটি পর্যাপ্ত কর্মী না রেখে অতিরিক্ত বেসরকারি সংস্থার ওপর নির্ভরশীল বলেও তাঁর অভিযোগ। পরিশেষে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিরোধী সাংসদদের প্রস্তাব ও সুপারিশগুলি বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এত বড় কেলেঙ্কারির পরেও মন্ত্রী পদত্যাগ না করায় জনরোষ আরও বাড়ছে।