গুজরাটে প্রলয়ঙ্কারী বন্যা: টানা বর্ষণে বানভাসি একাধিক জেলা, নিরাপদ আশ্রয়ে ৩৮ হাজার মানুষ

টানা তিন দিন ধরে চলা মুষলধারে বৃষ্টির কারণে গুজরাটের জনজীবন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ এই বন্যায় বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং ভারতীয় সেনা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৮,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৩৫২ জনকে। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেশ কিছু ট্রেন।
ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের কিছু এলাকায় ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও উদ্ধারকার্য
ত্রাণ কমিশনার গৌরাঙ্গ মাকওয়ানা পিটিআই-কে জানান, মূলত ভালসাদ ও নভসারি জেলা থেকে ৩৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশই আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও প্রায় ২,০০০ মানুষ সরকারি ত্রাণশিবিরে রয়েছেন। তবে এই দুর্যোগের মাঝে তাপি জেলায় একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের অন্তত ৩৫টি তালুকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভালসাদ, নভসারি, সুরাট, আহমেদাবাদ এবং খেডা জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আহমেদাবাদের দুরবস্থা ও মুখ্যমন্ত্রীর উচ্চপর্যায় বৈঠক
আটকে পড়া বৃষ্টির জলে আমেদাবাদের প্রধান রাস্তাঘাট ও এক ডজনেরও বেশি আন্ডারপাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা (IMD Alert)
- রেড অ্যালার্ট: মহিসাগর, পঞ্চমহল এবং দাহোদ জেলা।
- অরেঞ্জ অ্যালার্ট: ভালসাদ, তাপি, নভসারি, সুরাট, ভরুচ, ভদোদরা, আহমেদাবাদ, খেডা, গান্ধীনগর এবং আনন্দ জেলা।