হাসিনার সঙ্গে গোপনীয় যোগাযোগের খেসারত! মেয়াদের আগেই পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহবুদ্দিন

অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহবুদ্দিন। সংবিধানের ৫০(৩) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিজের স্বাক্ষর করা ইস্তফাপত্র সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টার অভিযোগই তাঁর এই পতনের মূল কারণ।
বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে: ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লিগ সরকারের আমলে ৫ বছরের মেয়াদের জন্য বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন শাহবুদ্দিন। পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদলে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেলেও তিনি নিজ পদে বহাল ছিলেন। কিন্তু গত মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরে গিয়ে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দেয়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন: বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতায় রয়েছে বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন তারেক রহমান। অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। এই ঘোষণা এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের গুঞ্জন বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
মেয়াদের আগেই বিদায়: ২০২৮ সালের এপ্রিলে শাহবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক চাপের মুখে দুই বছর আগেই তাঁকে সরে দাঁড়াতে হলো। গত বৃহস্পতিবারই বঙ্গভবনের বৈঠকে তাঁর পদত্যাগের প্রস্তুতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল, যা আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সত্যি প্রমাণিত হলো। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় এখন ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।