হাসপাতাল চত্বরে আন্দোলন নিষিদ্ধ! নির্দেশিকা জারির পরেই বর্ধমান মেডিক্যালের অধ্যক্ষের হঠাৎ বদলিতে তুঙ্গে বিতর্ক

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান, বিক্ষোভ, ধর্না এবং মিছিলের মতো সমস্ত ধরনের আন্দোলনমূলক কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর করা এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই বর্ধমানের রাজনৈতিক মহল ও শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর এই জলঘোলার মাঝেই বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরুলিয়ায় বদলি করার নির্দেশ আসায় জল্পনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা
সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রশাসনিক ভবনের গেটের পাশের দেওয়ালে ওই কড়া নির্দেশিকার একটি প্রতিলিপি সাঁটানো দেখা যায়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে কোনোভাবেই কোনো ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি করা যাবে না।
দেশজুড়ে যখন বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদের ঝড় বইছে, ঠিক সেই আবহেই বর্ধমান মেডিক্যালে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাঁদের জোরালো দাবি, ছাত্র-যুবদের আন্দোলন ও প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করতেই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা জরুরি। সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরের দিনই অধ্যক্ষের বদলি!
এই নির্দেশিকা জারির ঠিক পরের দিনই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরুলিয়ায় বদলি করার খবর সামনে আসে। প্রশাসনিক সূত্রে একে নিয়মিত রদবদল বলা হলেও, সাম্প্রতিক এই নির্দেশিকার সঙ্গে এই বদলির কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও রাজ্য সরকার বা স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একদিকে কলেজ চত্বরে আন্দোলন নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত এবং অন্যদিকে তার ঠিক পরেই অধ্যক্ষের আকস্মিক বদলি—এই দুই ঘটনার জেরে বর্তমানে চরম উত্তপ্ত ও চৰ্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর।