আন্দোলন উঠতেই মমতাকে ফোন CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের! কী কথা হলো দুজনের?

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি ঠিক হয়েছিল, সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে তিনি দিল্লিও যাবেন। তবে নির্ধারিত সেই কর্মসূচির আগেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে CJP। আর আন্দোলন তুলে নেওয়ার পরেই সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে কালীঘাটে ফোন করেন অভিজিৎ। ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকে সমর্থন ও মূল্যবান পরামর্শ দেওয়ার জন্য তিনি মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টেলিফোনে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় দুজনের মধ্যে।
দিল্লি যাওয়া কি তবে বাতিল?
ছাত্রদের মূল দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শনিবার তিনি ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আর দিল্লি যাচ্ছেন? সূত্রের খবর, আন্দোলন তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে দুজনের। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে আপাতত দিল্লি আর যাচ্ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী জানিয়েছেন অভিজিৎ দিপকে?
ধর্মেন্দ্র প্রধান এক্স হ্যান্ডেলে নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে CJP সমর্থকরা। যন্তর মন্তরের ধর্না মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত শূন্যে ছুড়ে সেই জয়ের ঘোষণা করেন অভিজিৎ দিপকে। জমায়েত হওয়া জেন জি (Gen Z)-দের উদ্দেশে তিনি স্লোগান তোলেন, ‘লং লিভ স্টুডেন্টস পাওয়ার’।
কটাক্ষের সুরে CJP প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “সুবহ হো গই মামু! ওরা নিজেদের বাদশা ভেবে ফেলেছিল। মাথায় রাখবেন, আরশোলা একবার ঢুকলে আর বেরোয় না। অনেকেই বলেছিলেন, এই সরকারে নাকি পদত্যাগ হয় না। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।” ধর্মেন্দ্রর এই পদত্যাগকে তিনি ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মন্ত্রীর পদত্যাগের প্রধান দাবি মিটলেও সরকারের কাছে তাঁদের আরও দুটি দাবি রয়েছে। NEET প্রশ্নফাঁসের জেরে অতীতে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারের হাতে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ তুলে দিতে হবে— এটি তাঁদের দ্বিতীয় দাবি। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া সমস্ত মিথ্যে মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছেন অভিজিৎ দিপকে।