ধর্মতলার মিছিলে গোলমাল কি বিদেশি ষড়যন্ত্র? চিহ্নিতদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

ধর্মতলার মিছিলে গোলমাল কি বিদেশি ষড়যন্ত্র? চিহ্নিতদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

ধর্মতলার ছাত্রমিছিলে গণ্ডগোল পাকানোর নেপথ্যে বিদেশি শক্তির হাত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নন্দীগ্রামের সোনাচুড়াতে প্রাতঃকালীন এক কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনায় অভিযুক্তরা চিহ্নিত হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রবিবার সোনাচুড়াতে বিজেপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ শোনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। ধর্মতলার গণ্ডগোলে অভিযুক্তদের সঙ্গে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র কোনো সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা নিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে একেবারেই জড়িত নন। আমি ভালো করে খতিয়ে দেখেছি। সিজেপির তরফেও সমাজমাধ্যমে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সাংবাদিকদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার দায় তাঁরা নেবে না।”

বিদেশি মদদ ও মৌলবাদী যোগের আশঙ্কা

সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেভাবে সাংবাদিকদের পেটানো হয়েছে, রক্তপাত ঘটানো হয়েছে এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে—তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মামলা খোদ সাংবাদিকদের উদ্যোগেই হয়েছে, পাশাপাশি পুলিশও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে। শুভেন্দুর সংযোজন, “আন্দোলনের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা ছাত্রও নয়, এরা আসলে ইসলামিক মৌলবাদী। এদের পেছনে ঠিক কোন বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।”

আইনের পথেই কড়া দমনপীড়ন

ধর্মতলার ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁদের সরকার কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বরদাশত করবে না এবং আইনের শাসনের মাধ্যমেই এই সমস্ত ‘গুন্ডা’দের দমন করা হবে। কেন এই ধরণের শক্তি বারবার বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “গত ১০ সপ্তাহ ধরে এই সরকার আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে কড়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, সেই ক্ষোভ ও যন্ত্রণা থেকেই এই ধরনের অসভ্যতামি চালানো হচ্ছে।”

প্রেক্ষাপট

শিক্ষায় দুর্নীতি এবং নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলনের আঁচ এসে পড়েছিল কলকাতাতেও। গত শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়। বাম ছাত্রসংগঠন ও সিজেপির যৌথ উদ্যোগে হওয়া ওই জমায়েত থেকেই পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার জেরে মোট ৭০ জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *