প্রধানমন্ত্রীর কুরুচিকর পোস্টার বিতর্ক! আইনি বিপাকে শ্রীলেখা মিত্র, কী সাফাই দিলেন অভিনেত্রী?

শুক্রবার কলকাতার রাস্তায় ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে আইনি জাঁতাকলে পড়ে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। প্রধানমন্ত্রীর একটি আপত্তিকর ও কুরুচিকর ছবিযুক্ত পোস্টার হাতে নিয়ে ছবি তোলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
আনন্দপুর থানায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। এর পাশাপাশি, বিধাননগর সাইবার ক্রাইম বিভাগসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার একাধিক থানাতেও অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে বলে খবর।
গত ২৪ জুলাই নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার রাজপথে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলে অন্যান্যদের সঙ্গে পা মিলিয়েছিলেন শ্রীলেখাও। অভিযোগ, সেই মিছিলে তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি কুরুচিকর ছবি ছিল এবং তিনি সেই পোস্টার হাতে ছবিও তোলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। তবে এখনই এফআইআর (FIR) দায়ের না করে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) শান্তিভঙ্গের উসকানি, উসকানিূলক আচরণে প্রকাশ্য সমর্থন এবং মানহানির বিভিন্ন ধারায় এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
কী সাফাই দিলেন অভিনেত্রী?
গোটা বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন শ্রীলেখা মিত্র নিজেও। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি রাজনৈতিকভাবে বিজেপি-বিরোধী মতাদর্শের হলেও তাঁকে দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া অত্যন্ত হাস্যকর। অভিনেত্রীর দাবি, শুক্রবার তিনি নিছকই ছাত্র-যুবদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন।
সেই সময় তাঁর চোখে সাধারণ চশমার বদলে রোদচশমা থাকায় পোস্টারটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি বলে জানান তিনি। শ্রীলেখার কথায়, চারদিকে পুলিশের লাঠিচার্জের জেরে চরম উত্তেজনা ও তাড়াহুড়োর মধ্যে তিনি পোস্টারটি হাতে নিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে ঠিক কী ছবি বা লেখা ছিল, তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখার বিন্দুমাত্র সুযোগ তাঁর ছিল না। পাশাপাশি, শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তিনি বলেন, একসময় বিজেপি ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগান দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের ক্ষোভ ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। শুক্রবারের মিছিল তাঁর কাছে স্মরণীয় হলেও তিনি যদি অজান্তেই কোনো ভুল করে থাকেন, তবে আইনগত শাস্তি মাথা পেতে নিতেও তিনি রাজি বলে জানিয়েছেন।
পাল্টা আক্রমণ বিজেপি শিবিরের
যদিও শ্রীলেখার এই সাফাই মানতে নারাজ বিজেপি শিবির। নেত্রী কেয়া ঘোষের স্পষ্ট দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই প্রধানমন্ত্রীর এমন কুরুচিকর ছবি দেখে তিনি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অবিলম্বে শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রশাসন যদি উপযুক্ত পদক্ষেপ না করে, তবে তাঁরা আইনি লড়াইয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন।