স্কুলে যাওয়ার নাম করে বিপত্তি! পাচারকারীর খপ্পরে বেলডাঙার ৩ কিশোরী

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্কুল যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিপাকে পড়ল তিন কিশোরী। এদের মধ্যে একজন ষষ্ঠ শ্রেণির, অন্যজন সপ্তম এবং আরেকজন নবম শ্রেণির পড়ুয়া। অভিযোগ, ঘুরতে গিয়ে এক সন্দেহভাজন পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে তারা। কোনোমতে সেই যুবকের হাত থেকে পালিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে চলে আসে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। তবে বাকি দুই ছাত্রীর এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। শনিবার উদ্ধার হওয়া ছাত্রীকে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ, পাশাপাশি বাকিদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। তিন ছাত্রীরই বাড়ি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি ছাড়ে ওই তিন ছাত্রী। কিন্তু বিদ্যালয়ে না গিয়ে তারা ট্রেনে চেপে লালবাগে ঘুরতে যায়। সেখানে মতিঝিল পার্কে ঘোরাঘুরির সময় এক অচেনা যুবকের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এরপর কলকাতায় ঘুরিয়ে দেখানোর লোভ দেখিয়ে ওই যুবক তাদের প্রলুব্ধ করে। সেই ফাঁদেই পা দিয়ে শিয়ালদহগামী ট্রেনে চড়ে বসে তিন কিশোরী।
শিয়ালদহ স্টেশনে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
অভিযোগ, ট্রেন শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছতেই ওই যুবক তিন ছাত্রীকে সোজা বেঙ্গালুরু নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। এই কথা শোনার পরই ভয়ে শিউরে ওঠে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীটি। বুদ্ধি করে যুবকের নজর এড়িয়ে স্টেশনের অন্য একটি প্ল্যাটফর্মে পালিয়ে যায় সে। এরপর এক অচেনা মহিলা যাত্রীর কাছে গিয়ে সমস্ত ঘটনা জানিয়ে সাহায্যের আকুতি জানায়।
মহিলার তৎপরতায় রক্ষা
উদ্ধারকারী ওই মহিলা জানান, তিনি ভগবানগোলার কুলগাছির বাসিন্দা এবং কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার জন্য শিয়ালদহ স্টেশনে লালগোলা প্যাসেঞ্জারের অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ঠিক তখনই স্কুল ইউনিফর্ম পরা ওই ভীতসন্ত্রস্ত কিশোরীকে দেখতে পান। কিশোরী কাঁদতে কাঁদতে তাঁর সাহায্য চাইলে, তিনি আর দেরি না করে তাকে নিজের সঙ্গে ট্রেনে তুলে নেন।
শনিবার সকালে ওই ছাত্রীকে ভগবানগোলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে বেলডাঙা থানায় খবর পাঠানো হলে পরিবারের লোকজন গিয়ে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। তবে অন্য দুই পড়ুয়া এবং সেই অভিযুক্ত যুবকের এখনও কোনো হদিস মেলেনি। তাদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।