ফ্লিপকার্ট জমি চুক্তিতে ১২ কোটিরও বেশি লোকসান! CAG রিপোর্টে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এ বার ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (WBIDC)-এর বিপুল আর্থিক লোকসানের চিত্র ধরা পড়ল সাম্প্রতিক CAG (কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, নদিয়ার হরিণঘাটা শিল্পতালুকে ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্টের লজিস্টিক্স শাখা ইনস্টাকার্ট সার্ভিসেসকে জমি বরাদ্দ করতে গিয়ে ১২ কোটিরও বেশি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজ্য।
কীভাবে হলো এই আর্থিক ক্ষতি?
CAG রিপোর্ট অনুযায়ী, হরিণঘাটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের লেআউট প্ল্যান অনুযায়ী ওই প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৫৫.৮৯ একর জলাশয় রয়েছে, যা আদতে শিল্পায়নের কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম জমির বেস প্রাইস বা মূল্য নির্ধারণের সময় ওই জলাশয়ের অংশটি বাদ না দিয়েই পুরো ৩৫৮.১৯ একর জমিকেই হিসাবের ভিত্তি ধরে নেয়।
নিয়ম অনুযায়ী, শিল্পের জন্য ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ ধরে পুনরায় হিসেব করলে জমির বেস প্রাইস একর প্রতি ৭৫ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা হওয়া উচিত ছিল। অথচ নিগম ইনস্টাকার্টের কাছ থেকে একর প্রতি মাত্র ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা হারে মূল্য আদায় করেছে। এর ফলে ১০৯.১২ একর জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ১২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার বিরাট ঘাটতি বা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
রিপোর্ট চেপে যাওয়ার অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হল, এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির এই তথ্যটি সম্পূর্ণভাবে চেপে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের এই চাঞ্চল্যকর CAG রিপোর্টটি তৎকালীন সময়ে প্রকাশ্যে আনেনি প্রশাসন।
হরিণঘাটায় ফ্লিপকার্টের মেগা প্রকল্প
উল্লেখ্য, হরিণঘাটা শিল্পতালুকের এই ক্যাম্পাসেই রয়েছে ফ্লিপকার্টের দেশের বৃহত্তম ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, যা পশ্চিমবঙ্গে সংস্থাটির অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ কেন্দ্র। ৫০ লক্ষ কিউবিক ফিট সংরক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ছয়টি মেজানাইন স্তরে বিস্তৃত এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রটির উদ্বোধন হয়েছিল ২০২২ সালে। ২০১৮ সালে হরিণঘাটায় আঞ্চলিক বিতরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য প্রায় ১০৯ একর জমির আবেদন করেছিল ইনস্টাকার্ট সার্ভিসেস, যেখানে প্রায় ৯৯১ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই জমি নিয়ে ৯৯ বছরের লিজ চুক্তি সম্পাদিত হয়।
এদিকে, ২০২৩ সালের মে মাসে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে CAG-কে জানানো হয়েছিল যে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ডব্লিউবিআইডিসির পরিচালন পর্ষদ বিস্তারিত আলোচনার পরই এই বেস প্রাইস অনুমোদন করেছিল এবং পরবর্তীতে রাজ্য মন্ত্রিসভাও সেই প্রস্তাব অনুমোদন করে। তবে CAG রিপোর্টের এই নতুন প্রকাশ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।