‘জিহাদ ও প্রতিরোধই একমাত্র পথ!’ অন্তরাল থেকেই আমেরিকার বিরুদ্ধে হুঙ্কার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেইয়ের

‘জিহাদ ও প্রতিরোধই একমাত্র পথ!’ অন্তরাল থেকেই আমেরিকার বিরুদ্ধে হুঙ্কার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেইয়ের

তিনি কোথায় রয়েছেন, তার সঠিক হদিশ নেই কারও জানা। ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় গুরুতর জখম হওয়ার পর থেকেই অন্তরালে রয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই সোমবার কঠোর বার্তা দিয়ে ‘জিহাদের’ ডাক দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ লিডার মোজতাবা আলি খামেনেই। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (X)-এ তিনি সাফ জানিয়েছেন, ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’ একই সঙ্গে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হেজ়বোল্লার পাশে থাকার জোরাল বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

এক নজরে খামেনেইয়ের বার্তা:

  • বার্তার উৎস: দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকার পর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
  • মূল বার্তা: তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’
  • হেজ়বোল্লা নিয়ে অবস্থান: লেবাননের সশস্ত্র এই সংগঠনকে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ‘অটল শিলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
  • ইরানের কৌশলগত দায়িত্ব: লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং হেজ়বোল্লার নিরাপত্তাকে ইরানের ‘কৌশলগত দায়িত্ব’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
  • আমেরিকার সঙ্গে শর্ত: ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে কোনও চুক্তিতে লেবাননের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে।

হামাসের মতো হেজ়বোল্লাকেও সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে লেবাননে আক্রমণ থামানোর কথা বলা হলেও নেতানিয়াহু তাতে নারাজ। তাঁর অভিযোগ, ইরান আড়ালে এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দিয়ে চলেছে। এদিকে, হেজ়বোল্লার প্রধান শেখ নাইম কাসেম সম্প্রতি মোজতাবা খামেনেইয়ের কাছে আনুগত্যের বার্তা পাঠান। এ দিন তারই কড়া জবাব দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

হেজ়বোল্লার যোদ্ধাদের ‘ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও মহানুভবতার’ প্রশংসা করে মোজতাবা লিখেছেন, ‘লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা ইরানের কৌশলগত দায়িত্ব। ইজ়রায়েলের বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে হেজ়বোল্লাই একমাত্র অটল শিলার মতো রুখে দাঁড়িয়েছে।’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি; আমেরিকাকেও তীব্র আক্রমণ করেছেন। ইরানের সঙ্গে চলা চলমান সংঘাতকে ‘আরোপিত যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে যদি কোনও সমঝোতা করতেই হয়, তবে তাতে লেবাননের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলের সামরিক আগ্রাসন বন্ধের শর্ত থাকতেই হবে।’

এর পরেই মোজতাবা খামেনেই হুঙ্কার দিয়ে জানান, ‘জিহাদ ও প্রতিরোধই একমাত্র পথ।’ তাঁর দাবি, এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারলে শেষ পর্যন্ত ‘সত্যের পক্ষে’ লড়া শক্তিই জয়ী হবে। দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষের ধৈর্য ও সমর্থনের প্রশংসার পাশাপাশি নিহত হেজ়বোল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লাহসহ সংগঠনের অন্যান্য নিহত কমান্ডারদেরও গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।

হেজ়বোল্লার যোদ্ধাদের অকুন্ঠ প্রশংসায় ভরিয়ে মোজতাবা বলেন, ‘দলের নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধারাই ছোট চারাগাছটিকে আজ এক বিশাল বৃক্ষে পরিণত করেছেন।’ গোটা ইসলামিক বিশ্বে লেবাননের মর্যাদা বৃদ্ধির নেপথ্যেও হেজ়বোল্লার বড় অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে খামেনেইয়ের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

রাজনৈতিক ও আদর্শগত দিক থেকে যে তেহরান এখনও হেজ়বোল্লার পাশে রয়েছে, খামেনেইয়ের এই বার্তা তা আরও স্পষ্ট করে দিল। একই সঙ্গে ইরান বুঝিয়ে দিল, ভবিষ্যতে আমেরিকার সঙ্গে কোনও বৃহত্তর শান্তিচুক্তিতে লেবাননের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে কতটা প্রধান শর্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *