মধ্যরাতে কেন্দ্রের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক, বড় আন্দোলনের হুমকি থেকে পিছু হটল সিজেপি

মধ্যরাতে কেন্দ্রের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক, বড় আন্দোলনের হুমকি থেকে পিছু হটল সিজেপি

কেন্দ্রীয় সরকার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে সোমবারই তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। কিন্তু সেই হুঁশিয়ারি জারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয়ভাবে নিজের অবস্থান বদল করলেন সিজেপি নেতৃত্ব।

সোমবার মধ্যরাতেই কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন সৌরভ দাস। বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যমে নিজেই সেই খবর জানিয়ে স্বস্তির বার্তা দেন তিনি।

সিজেপির মূল দাবি ও অভিযোগ কী ছিল?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দীর্ঘ দেড় মাসের একটানা আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটেছিল। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও সিজেপির প্রধান দাবি ছিল—আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া ও ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত পুলিশি মামলা নিঃশর্তে প্রত্যাহার করতে হবে। জে পি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সরকার এই দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিল এবং সমস্ত মামলার লিখিত তালিকা সিজেপিকে দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সোমবার প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বলকে পাশে নিয়ে সিজেপি সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক অভিযোগ করে যে, কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রদের এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং ভলান্টিয়ারদের হয়রানি করা হচ্ছে। সেই কারণেই সৌরভ দাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিশ্রুতির লিখিত চুক্তি হাতে না পেলে তারা ফের বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।

মধ্যরাতের বৈঠক ও সরকারের আশ্বাস

সোমবারের সেই আল্টিমেটামের পরেই দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। সোমবার রাতে ‘এক্স’ (X)-এ একটি পোস্ট করে সৌরভ দাস জানান যে, সাংবাদিক বৈঠকের পরপরই সরকারি প্রতিনিধিরা সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার এক দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকে বসেছেন।

  • খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন: সৌরভের দাবি, বৈঠকে বিহার ও আসাম সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি সিজেপি নেতাদের দেখানো হয়েছে।
  • কী রয়েছে খসড়ায়: ওই খসড়ায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা দমনপীড়ন না চালানোর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

মঙ্গলবারের ডেডলাইন ও পরবর্তী পদক্ষেপ

সৌরভ দাস তাঁর পোস্টে আরও জানান, শুধু বিহার বা আসাম নয়, কেন্দ্র সরকার সহ অন্যান্য এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলিও মঙ্গলবারের মধ্যে একই ধরনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করবে বলে কড়া আশ্বাস দিয়েছে। পোস্টের শেষে সমস্ত আন্দোলনকারী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, “কোনো আন্দোলনকারী একা নন, আমরা সবাই একসঙ্গে রয়েছি।”

সংবাদ বিশ্লেষণ: দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং ছাত্র আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক চাপ কাটাতে শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতে সরকারের তরফে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সিজেপির পক্ষ থেকে মঙ্গলবারের ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হলেও, মধ্যরাতের এই বৈঠকের পর আপাতত নতুন করে বড়ো কোনো আন্দোলনের পথে হাঁটছে না সংগঠনটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *