চিরবিদায় ৬ নম্বর জার্সির, ফুটবলবিশ্বকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্কো বারেসি

বিশ্বফুটবলের রক্ষণে যিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য প্রাচীর, সেই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে ৬৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ইতালি ও এসি মিলানের এই ঐতিহাসিক ফুটবলার। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে এসি মিলান কর্তৃপক্ষের এক অফিশিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়।
ভেঙে পড়েছে মিলানের ‘ডিএনএ’ ক্লাব ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় এক ক্লাবেই কাটিয়ে দেওয়া বারেসিকে হারিয়ে গভীরভাবে শোকাহত এসি মিলান। এক আবেগঘন বার্তায় ক্লাবটি জানিয়েছে, “ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণে এসি মিলানের আস্ত ইতিহাস আজ যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব, সততা ও আদর্শ চিরকাল আমাদের ক্লাবের রক্তে মিশে থাকবে। এই কঠিন সময়ে আমরা তাঁর পরিবারের পাশে আছি। প্রত্যেক ‘রোসোনেরি’ (মিলান) সমর্থকের জন্য এটি এক অপরিসীম ক্ষতি।”
অসুস্থতার লড়াই ও সান সিরোর বিদায় বেশ কয়েক বছর ধরেই শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁর ফুসফুসে এক সফল অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। মাঝে কিছুটা সুস্থ হয়ে জনসমক্ষেও আসেন তিনি—সান সিরোর গ্যালারিতে উপস্থিতি কিংবা ২০২৬ সালের মিলান-কর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মশাল হাতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
এক ক্লাবের মহাকাব্যিক পথচলা বর্তমান যুগে এক দলের প্রতি আজীবন আনুগত্যের দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়, যা বারেসি করে দেখিয়েছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৭—দীর্ঘ ২০ বছর এসি মিলানের হয়ে ৭১৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। মাত্র ২২ বছর বয়সে পান অধিনায়কত্ব এবং টানা ১৫ বছর ক্লাবের আর্মব্যান্ড সামলেছেন দক্ষ হাতে।
এসি মিলানের ইতিহাসে তিনি কতখানি উজ্জ্বল, তার প্রমাণ মেলে তাঁর অর্জনে—ছয়টি সেরি আ (ইতালিয়ান লিগ), তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ), দুটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও চারটি ইতালিয়ান সুপারকাপ। তাঁর অসামান্য অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০২৪ সালে বারেসির আইকনিক ‘৬ নম্বর’ জার্সিটিকে আজীবনের জন্য অবসরে পাঠায় এসি মিলান এবং ২০২০ সালে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল ক্লাবের ‘সম্মানসূচক ভাইস প্রেসিডেন্ট’-এর দায়িত্ব।
একজন প্রকৃত নেতা ও ফুটবলের সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে কোটি কোটি অনুরাগীর হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন ফ্রাঙ্কো বারেসি।