মানিব্যাগে প্লাস্টিকের টাকা! RBI-এর বড় চমক, সহজে ভাঁজ করা যাবে তো?

মানিব্যাগে প্লাস্টিকের টাকা! RBI-এর বড় চমক, সহজে ভাঁজ করা যাবে তো?

বিশ্বের একাধিক দেশ—যেমন আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডায় বহুকাল ধরেই প্লাস্টিক বা পলিমার কারেন্সি চালু রয়েছে। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে ভারত।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র প্রস্তাবে সায় দিয়ে ভারত সরকার ১০ ও ২০ টাকার পলিমার (প্লাস্টিক) নোটের ‘ফিল্ড ট্রায়াল’ বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে। এই পাইলোট প্রজেক্টের অধীনে বাজারে ১০০ কোটি পলিমার নোট ছাড়া হবে। মূল উদ্দেশ্য—সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারে এই নোট কতটা টেকসই হয়, তা পরখ করা।

তবে RBI স্পষ্ট করেছে, এতে আতঙ্কের কিছু নেই। বর্তমান কাগজের নোটও সমানভাবে চলবে। এখনই পুরোপুরি কাগজের নোট তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কী এই পলিমার নোট?

পলিমার নোট মূলত বিশেষ ধরনের প্লাস্টিকজাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি। এগুলি সাধারণ নোটের মতো তুলা বা কটন ফাইবার দিয়ে তৈরি নয়, বরং Biaxially Oriented Polypropylene (BOPP) নামক হালকা, অত্যন্ত নমনীয় ও দীর্ঘস্থায়ী প্লাস্টিক ফিল্ম দিয়ে তৈরি।

প্লাস্টিকের নোট কি সহজে ভাঁজ করা যাবে?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, প্লাস্টিকের তৈরি হওয়ায় নোটটি হয়তো শক্ত হবে বা ভাঁজ করা যাবে না। কিন্তু আসল তথ্য হলো:

  • সম্পূর্ণ নমনীয়: পলিমার নোট অত্যন্ত পাতলা ও নমনীয়। বর্তমান কাগজের নোটের মতোই এটি সহজে ভাঁজ করে পকেটে বা মানিব্যাগে রাখা যাবে।
  • দাগ পড়বে না: কাগজের নোট বারবার ভাঁজ করলে যেমন স্থায়ী দাগ বা দাগের জায়গায় ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, পলিমার নোটে তা হবে না। নোটটি ভাঁজ খুললেই আবার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

পলিমার নোটের বিশেষ সুবিধাসমূহ:

  • অত্যন্ত টেকসই: জল, কাদা বা আর্দ্রতায় এই নোট নষ্ট হয় না এবং সহজে ছেঁড়ে না। ফলে বারবার নতুন নোট ছাপানোর বিপুল খরচ বাঁচবে।
  • স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন: প্লাস্টিকজাতীয় উপাদানের কারণে নোটে ময়লা, ঘাম বা জীবাণু-ব্যাকটেরিয়া কম জমে।
  • জাল করা আসাম্ভব: এই নোটের দুই পাশে বিশেষ সাদা কোটিং (Opaque Coating) থাকে এবং কিছু অংশ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (Transparent Window) রাখা হয়। আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণে এই নোট জাল করা অত্যন্ত কঠিন।

ATM ও টাকা গোনার মেশিনে কি প্রভাব পড়বে?

যেহেতু পলিমার নোটের পুরুত্ব ও গঠন কাগজের থেকে সামান্য আলাদা, তাই শুরুতে ব্যাংকের ATM, ক্যাশ-হ্যান্ডলিং মেশিন ও টাকা গোনার সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারে কিছু টেকনিক্যাল আপগ্রেড করতে হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *