৫ আগস্টের আগে দিল্লিতে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক: বড় কোনো সার্জিক্যাল অ্যাকশনের প্রস্তুতি, নাকি নেপথ্যে নাশকতার ছক?

আগামী ৫ আগস্টের প্রাক্কালে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং শীর্ষ কৌশলগত বলয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার। দেশের রাজধানী দিল্লিতে একের পর এক হাই-প্রোফাইল গোপন বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে চরম জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তড়িঘড়ি তৎপরতার পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ থাকতে পারে— ১. সরকার কি খুব শীঘ্রই কোনো বড় ধরনের নীতিগত বা কৌশলগত কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে? ২. নাকি সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো মারাত্মক দেশবিরোধী নাশকতার ছক গোড়াতেই পণ্ড করতে এই জরুরি বৈঠকগুলো ডাকা হয়েছে?
সংসদে হট্টগোল বনাম বন্ধ ঘরের মাস্টারপ্ল্যান
একদিকে সংসদে যখন বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-পেপার লিক বিল’ পেশ করা নিয়ে বিরোধী সাংসদদের তীব্র হট্টগোল ও ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ চলছিল, ঠিক তখনই নজর কাড়ে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য। ভারতের ‘জেমস বন্ড’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল অত্যন্ত নিঃশব্দে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। বাইরে থেকে বিষয়টিকে রুটিন সফর মনে হলেও, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও কোলাহলের আড়ালে দেশের চরম সংবেদনশীল কোনো কোভার্ট অপারেশনের নথিতে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হচ্ছিল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সংসদের উত্তপ্ত দৃশ্য যখন খবরের শিরোনামে, আসল রণকৌশল কিন্তু নির্ধারিত হচ্ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিজস্ব কার্যালয়ে। সম্প্রতি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ আন্দোলনের নামে পূর্বপরিকল্পিত হিংসাত্মক ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি জরুরি নিরাপত্তা পর্যালোচনার ডাক দেন। প্রায় ৪০ মিনিট ব্যাপী এই হাই-লেভেল বৈঠকে আইবি (IB) প্রধান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং সমস্ত আধা-সামরিক বাহিনীর প্রধানরা (DG) সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অজিত ডোভাল একান্তে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন?
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের শীর্ষ নিরাপত্তা ও নীতি নির্ধারণী এই বৈঠকে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন:
- অমিত শাহ (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
- রাজনাথ সিং (প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
- এস জয়শঙ্কর (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- নির্মলা সীতারমণ (অর্থমন্ত্রী)
- অজিত ডোভাল (জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা – NSA)
- জেপি নাড্ডা, হারদীপ সিং পুরী এবং পীযূষ গোয়াল (কেন্দ্রীয় মন্ত্রীগণ)
- আইবি চিফ, স্বরাষ্ট্র সচিব ও সমস্ত আধা-সামরিক বাহিনীর ডিজিবৃন্দ।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক যোগসূত্র
সাম্প্রতিক NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে বিরোধী দলগুলো। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন শক্তি ভারতের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত ও উত্তেজিত করে দেশে অস্থিরতা তৈরির সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত করছে। এই চক্রটি কেবল অবৈধ অর্থ উপার্জন করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে মুহূর্তের মধ্যে দেশবিরোধী হিংসা ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র চিরতরে উপড়ে ফেলতেই সরকার দ্রুত ‘অ্যান্টি-পেপার লিক বিল’ কার্যকর করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে কড়া আল্টিমেটাম
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং এনএসএ অজিত ডোভালের মূল লক্ষ্য এখন কেবল মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের ধরা নয়, বরং এই চক্রান্তের পেছনে থাকা আসল কুশীলবদের খুঁজে বের করা। এই সূত্রে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের IFSO শাখা অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো শীর্ষ সোশ্যাল মিডিয়া টেক-জায়ান্টদের সরাসরি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গোপন গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, যন্তর মন্তরের হিংসা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভুয়ো খবরের নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানি ট্রেইল ও বিপুল বিদেশি ফান্ডিং। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং এই আন্তর্জাতিক চক্রকে ধ্বংস করতে এখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন।