চাকরির ফাঁদে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয়রা, স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে সুপ্রিম কোর্ট

চাকরির ফাঁদে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয়রা, স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে সুপ্রিম কোর্ট

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতায় আটকে পড়া, আহত কিংবা প্রাণ হারানো ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে বিদেশ মন্ত্রককে (MEA) অবিলম্বে একজন বিশেষ নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে। মূলত ট্র্যাভেল এজেন্টদের প্রতারণার শিকার হয়ে যারা রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন হারিয়েছেন, সেই অসহায় পরিবারগুলোর স্বার্থসুরক্ষার্থেই শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপ।

ডিএনএ পরীক্ষা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশিকা

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিযুক্ত নোডাল অফিসারের যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য দ্রুত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাতে হবে। নিহতদের দেহ সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক, এবং স্বজনদের ডিএনএ ম্যাচ করার পরেই দেহ পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া, রুশ সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ভাষায় একটি নির্দেশিকায় রূপান্তর করে স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করে পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের আবেদন প্রক্রিয়া চললেও, এর কারণে যেন মৃতদেহ দেশে ফেরাতে বা শেষকৃত্যে বিন্দুমাত্র দেরি না হয়—তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের নিখরচায় আইনি সহায়তা দিতে রাজ্য লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রাশিয়া থেকে আসা প্রয়োজনীয় নথিপত্র অনুবাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদেশ মন্ত্রককে।

প্রতারণার ভয়াবহ জাল ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

আদালত জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ভালো বেতনের চাকরির আশায় বহু ভারতীয় যুবক রাশিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন। তাঁদের নির্মাণ বা হোটেল সেক্টরে কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, সেখানে পৌঁছানোর পরই কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র। এরপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে বাধ্য করা হয় রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নামতে।

যুদ্ধের বীভৎসতায় বহু তরুণ প্রাণ হারালেও উপযুক্ত শনাক্তকরণের অভাবে অনেক দেহ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার করতেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *