যৌনতার ফাঁদে গোপন তথ্য হাতিয়ে জঙ্গি প্রেমিককে যোগান! ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার অর্পিতা

বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন জইশ-ই-মোহাম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের পর এবার ধরা পড়ল তার মূল সহযোগিনী ও ‘বান্ধবী’ অর্পিতা সরকার। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (STF) শুক্রবার রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রভাবশালীদের যৌনতার ফাঁদে (হানিট্র্যাপ) ফেলে সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য জোগাড় করাই ছিল অর্পিতার প্রধান কাজ।
যেভাবে কাজ করত এই চক্র: এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরার পরই উঠে আসে অর্পিতার নাম। অর্পিতা প্রধানত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করত। রূপ ও যৌনতার ফাঁদ পেতে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তা পৌঁছে দিত তার ‘বয়ফ্রেন্ড’ হামিমকে। শুধু তাই নয়, হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অপহরণের নানা অ্যাসাইনমেন্টও সে পেত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর পেছনে এক বড়সড় আন্তর্জাতিক চক্রের হাত রয়েছে।
তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য: তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের প্রধান নিশানায় ছিলেন বিরোধী দলনেতা তথা রাজ্যের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিজেপি ও আরএসএস (RSS)-এর নেতারা। পাক গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর নির্দেশে হামিম ও অর্পিতা রাজ্যজুড়ে এই নজরদারি ও রেকি চালাচ্ছিল। হামিমের ল্যাপটপ ও মোবাইল ঘেঁটে শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের পথ, বিশেষ করে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ফেরার রাস্তার যাবতীয় রেকির তথ্য ও প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ: ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতারের পর গভীর রাতেই বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবারই তাকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে এসটিএফ। মুখোমুখি বসিয়ে হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করে গোটা ষড়যন্ত্রের শিকড়ে পৌঁছাতে চান তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।