গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভারতে প্রতি ৬ মিনিটে ১ জনের মৃত্যু! আইসিসিটি (ICCT)-র রিপোর্টে স্বাস্থ্যের মহাবিপর্যয়

ভারতের রাজপথে হু-হু করে বাড়া যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া কেবল বাতাসকেই নোংরা করছে না, প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের জীবন। ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্র্যান্সপোর্টেশন’ (ICCT)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক আতঙ্কজনক চিত্র। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে যানবাহনজনিত বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৯০,০০০ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে এবং ১৫,৩০০ শিশু নতুন করে হাঁজল (Asthma) রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
সহজ অংকে হিসাব করলে—প্রতি ৬ মিনিটে একজন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এবং প্রতি ৩৪ মিনিটে একটি শিশু হাঁজলর শিকার হচ্ছে!
রিপোর্টের কিছু শিউরে ওঠার মতো তথ্য
- বিশ্বের ১৩% মৃত্যু ভারতেই: সারা বিশ্বে যানবাহনের দূষণজনিত কারণে যত অকালমৃত্যু হয়, তার ১৩ শতাংশই ঘটছে ভারতে।
- হটস্পট দিল্লি-এনসিআর: এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু দেশের রাজধানী অঞ্চল। ২০২৪ সালে কেবল দিল্লি-এনসিআর-এই গাড়ির ধোঁয়ায় ৮,১০০ জনের অকালমৃত্যু হয়েছে (দেশের মোট মৃত্যুর ৯%)।
- শিশুদের ঝুঁকি সবথেকে বেশি: এনসিআর অঞ্চলে দেশের মাত্র ৫% মানুষ বাস করলেও, নতুন হাঁজলতে আক্রান্ত শিশুদের ২৩% (৩,৫০০ জন) এই এলাকারই।
- ডব্লিউএইচও-এর সীমা পার: দিল্লিতে বাতাসে PM2.5-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিরাপদ সীমার চেয়ে আড়াই গুণেরও বেশি!
বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে কারা?
পরিসংখ্যান বলছে, রাস্তায় ট্রাক ও বাসের মতো ভারী যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও দূষণের সিংহভাগ দায় এদেরই। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন খাতের মোট নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমনের ৭৯% এবং PM2.5 নির্গমনের ৬৪% এসেছে এই ভারী যানগুলো থেকেই।
বাঁচার উপায় কী?
আইসিসিটি (ICCT) ভারতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত ভাটের মতে, গাড়ি থেকে এই বিষাক্ত নির্গমন বন্ধ করার একমাত্র ও স্থায়ী সমাধান হলো বিদ্যুতায়ন (Electrification)।
প্রতিবেদনে আশার আলো হিসেবে জানানো হয়েছে, ভারত যদি দ্রুত শূন্য-নিঃসরণকারী (Zero-Emission) বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে সফলভাবে পা বাড়াতে পারে, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে অন্তত ১৭ লক্ষ অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে পুরোনো দূষণকারী গাড়ি তুলে নেওয়া এবং ই-ভেহিকেল (EV) নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।