‘লাঠি খাওয়ার ভয় না থাকলে আসুন!’ E-20 পেট্রলের বিরুদ্ধে মোদীর বাড়ি অভিযানের ডাক কেজরিওয়ালের

নয়াদিল্লি: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেন্দ্র সরকারের ইথানল মিশ্রিত ‘ই-২০’ (E-20) পেট্রল নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সাধারণ পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং মাইলেজ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি আন্দোলনের ডাক দিলেন তিনি।
শনিবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন, আগামী ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে মিছিল করবেন এবং সাধারণ মানুষের দাবিপত্র বা ডেপুটেশন জমা দেবেন। আন্দোলনের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “লাঠিচার্জের ভয় পান না—এমন ১০০ জন যুবক আমার সঙ্গে আসুন। আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাব।”
বিরোধীদের ক্ষোভ ও নীতিন গড়করি প্রসঙ্গ
সাধারণ মানুষের ক্ষোভের পাশাপাশি বিরোধীরা এই বিষয়ে আরও বড় চক্রান্তের অভিযোগ তুলছেন। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলের যোগাযোগ রয়েছে, আর সেই সুবিধার্থেই কেন্দ্র সাধারণ মানুষের ওপর এই নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে। এই অসন্তোষের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’, যা রাতারাতি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে।
কেজরিওয়ালের ৩টি প্রধান দাবি:
১. পছন্দের স্বাধীনতা: পেট্রল পাম্পে গ্রাহকদের সাধারণ পেট্রল এবং E-20—এই দুটি বেছে নেওয়ার বিকল্প দিতে হবে। ২. দাম কমানো: সাধারণ পেট্রলের দাম কমাতে হবে। ৩. ইথানলের দাম নিয়ন্ত্রণ: পেট্রলে ব্যবহৃত ইথানলের দামও কমাতে হবে।
কেজরিওয়ালের বিস্ফোরক দাবি, ভারত-আমেরিকা প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকাকে সন্তুষ্ট করতেই কেন্দ্রের এই নীতি প্রয়োগ। তিনি জানান, এই দাবির সমর্থনে ইতিমধ্যে অনলাইনে গণ-স্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়েছে এবং সেই স্বাক্ষরের প্রিন্টআউট নিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন।
সমাজকর্মী তহসিন পুনাওয়ালাকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ
অন্যদিকে, E-20 নীতির প্রতিবাদে মৌন মিছিল ও অনশনের ডাক দেওয়া সমাজকর্মী তহসিন পুনাওয়ালাকে শনিবার সকালেই দিল্লি পুলিশ গৃহবন্দি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে পুনাওয়ালা দেখান, কোনো লিখিত নির্দেশ ছাড়াই তাঁর বাড়ির বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ইথানল ইস্যুতে সত্য সামনে আসার ভয়েই নীতিন গড়করি ও দিল্লি পুলিশ আমায় আটকে রেখেছে।”