সেন্সাস ২০২৭: ডিজিটাল জনগণনায় বিশেষ দায়িত্বে পুরকর্মী ও পড়ুয়ারা, জেনে নিন সহজ নিয়ম

সেন্সাস ২০২৭: ডিজিটাল জনগণনায় বিশেষ দায়িত্বে পুরকর্মী ও পড়ুয়ারা, জেনে নিন সহজ নিয়ম

কলকাতা: তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় ১ অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনা প্রক্রিয়া— ‘সেন্সাস ২০২৭’। প্রথম দফায় ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলবে ‘সেলফ-এনুমারেশন’ বা অনলাইনে নিজের তথ্য নিজে জমা দেওয়ার কাজ। এরপর ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় দফার মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা। ২০২৭ সালের ১ মার্চ এই জনগণনার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হবে।

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতার পুরপ্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এই কর্মসূচির বিশদ রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, শহরের আনুমানিক ৫৫ লক্ষ মানুষের মধ্যে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ মানুষকে অনলাইন প্রক্রিয়ার আওতায় আনাই পুরসভার লক্ষ্য।

ডিজিটাল সেন্সাসের মূল দিকসমূহ:

  • সহজ প্রক্রিয়া: নাগরিকরা se.census.gov.in পোর্টালে গিয়ে বা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে মাত্র ১০ মিনিটে তথ্য জমা দিতে পারবেন। এর জন্য আধার বা ভোটার কার্ডের মতো কোনো বাড়তি নথির প্রয়োজন নেই।
  • ১১ ডিজিটের ‘SEID’: তথ্য সাবমিট করার পর একটি ১১ নম্বরের বিশেষ কোড পাওয়া যাবে। ১৬ অগস্ট থেকে গণনাকর্মীরা বাড়ি এলে এই কোডটি দেখালেই সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনে চলে আসবে।
  • পড়ুয়াদের ‘সেন্সাস প্রিফেক্ট’ দায়িত্ব: শহরের প্রায় ১,০০০টি স্কুলের (৮ম থেকে ১২শ শ্রেণি) প্রতি ক্লাসে একজন করে ‘সেন্সাস প্রিফেক্ট’ নিয়োগ করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি-সচেতন শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি আরও ১০টি পরিবারকে অনলাইনে তথ্য দিতে সাহায্য করবে।
  • পুরকর্মীদের জন্য বাধ্যবাধকতা: পুরসভার সমস্ত কর্মী ও আধিকারিকদের জন্য অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • বিশেষ ড্রাইভ: বস্তি, কলোনি, বড় আবাসন ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোতে সহায়তার জন্য বিশেষ ড্রাইভ চালানো হবে।

কলকাতা জুড়ে মোট ৮,২০০ জন গণনাকর্মী ও ১,৪০০ জন সুপারভাইজারকে এই কাজের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই প্রথম ডিজিটাল সেন্সাস পুরোপুরি সফল হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *