বন্দে ভারতে পৌঁছল হৃদপিণ্ড, চিকিৎসা সেবায় এক ঐতিহাসিক নজির গড়ল ভারতীয় রেল

ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে, কিন্তু ভেতরের পরিবেশ অন্যান্য সাধারণ দিনের মতো নয়। নেই কোনো নিত্যযাত্রীর ভিড় কিংবা ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ। একটি সুরক্ষিত পাত্রে রাখা রয়েছে তাজা একটি মানব হৃদপিণ্ড, যার প্রতিটি স্পন্দনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আহমেদাবাদের এক মুমূর্ষু রোগীর বেঁচে থাকার শেষ আশা। সামান্য এক মিনিটের দেরিও এই অভিযানে ডেকে আনতে পারত বড় বিপর্যয়।
ভারতের রেল ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো জীবন্ত দাতার হৃদপিণ্ড এভাবে ট্রেনে বহন করে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় রেল। মুম্বই সেন্ট্রাল-গান্ধীনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে করে অঙ্গটি সুরাট থেকে আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। গন্তব্য ছিল আহমেদাবাদের ইউ.এন. মেহতা ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়মে, শরীর থেকে অঙ্গ বের করার পর তা প্রতিস্থাপনের জন্য হাতে থাকে অত্যন্ত সীমিত সময়। তাই পুরো অভিযানটিতে কোনো ভুলের সুযোগ ছিল না। ট্রেন ছাড়ার সময় থেকে শুরু করে প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া—সবকিছুই আগে থেকে নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এই আসাম্ভবকে সম্ভব করতে যৌথভাবে কাজ করেছে ভারতীয় রেল, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF), গুজরাত পুলিশ এবং চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস আহমেদাবাদ স্টেশনে পৌঁছামাত্রই দ্রুততার সঙ্গে অঙ্গটি বের করে আনা হয়। স্টেশন থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছিল একটি বাধা-মুক্ত ‘গ্রিন করিডর’, যার সাহায্যে কোনো যানজট ছাড়াই দ্রুত হৃদপিণ্ডটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় এবং সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
জরুরি অঙ্গ পরিবহনে এত দিন কেবল বিমানেই ভরসা রাখা হতো। তবে বন্দে ভারতের এই অভূতপূর্ব সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে, সময়ের গুরুত্ব রয়েছে এমন জরুরি চিকিৎসা মিশনে ভারতীয় রেলও সমান পারদর্শী। আহমেদাবাদের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) বেদ প্রকাশ এই সাফল্যকে মানবসেবার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, শুধু যাত্রী বা পণ্য পরিবহন নয়, মানুষের জীবন বাঁচানোর মতো গুরুদায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে প্রস্তুত ভারতীয় রেল।