আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে এখন ‘গো-সেবা’! থানায় সরকারি অতিথির আদরে পাচারের গরু

পান্ডুয়া: চুরি বা অপরাধ রুখতে পুলিশের ভূমিকা সর্বজনবিদিত, কিন্তু অপরাধের প্রমাণ হিসেবে উদ্ধার হওয়া গবাদি পশুর দেখাশোনা? হ্যাঁ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এখন গো-সেবার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে পুলিশকে। সময়মতো খাবার দেওয়া, গুড়ের জল খাওয়ানো, গোয়াল বা থানা চত্বর পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ভেটেরিনারি ডাক্তার দেখানো—সবই এখন তাঁদের দৈনিক ডিউটির অংশ।
সম্প্রতি হুগলির পান্ডুয়া থানার পুলিশ পাচারকারীদের ছক ভেস্তে দিয়ে মোট ১৫টি গরু উদ্ধার করেছে:
- শুক্রবার রাতের ঘটনা: পান্ডুয়ার রোসনা ব্রিজের কাছে একটি চার চাকার টলি গাড়ি আটকে পাঁচটি গরু উদ্ধার করে পুলিশ। উপযুক্ত নথি দেখাতে না পারায় মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা চালক মোহামমাদ প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা: একইভাবে খন্যান চৌমাথা এলাকা থেকে আরও দুটি গাড়ি ও ৯টি গরু উদ্ধারসহ দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া এই ১৫টি গরুর আপাতত স্থায়ী ঠিকানা পান্ডুয়া থানা চত্বর। সেখানে তাদের রাখা হয়েছে একবারে ‘রাজার হালে’। গরুগুলির জন্য কেনা হয়েছে ১০ কাহন খড় ও প্রচুর গো-খাদ্য। পুষ্টির জন্য প্রতিটি গরুর নিয়মে বরাদ্দ দিনে ১০০ গ্রাম গুড়, যা জলে গুলে দিনে তিনবার খাওয়ানো হচ্ছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য দিনে দু’বার আসছেন সরকারি পশু চিকিৎসক।
নিজেদের মালিককে না পেয়ে পশুগুলো মাঝে মাঝে ডেকে উঠলেও, থানা চত্বরে পুলিশের কড়া নজরদারি ও রাজকীয় আতিথেয়তায় আপাতত বেশ ভালোই কাটছে এই ‘বিশেষ অতিথিদের’ দিনকাল!