‘তোলাবাজির মধুতে আসক্ত কিছু নেতা!’ শমীকের ১৫ দিনের আলটিমেটাম, কড়া হুঁশিয়ারি দিলীপেরও
দলীয় নেতাদের তোলাবাজি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্ব। এ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, তোলাবাজির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। দলকে শুধরে নেওয়ার জন্য তিনি ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, এর পর আর কোনো বিচ্যুতি বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কঠোর হাতে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। শমীক স্মরণ করিয়ে দেন, সাধারণ মানুষ শুধু সরকার বা জামা পরিবর্তনের জন্য নয়, সার্বিক পরিবর্তনের জন্যই বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন।
অন্যদিকে, পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, দলের কিছু নেতা তোলাবাজির ‘মধুতে আসক্ত’ হয়ে পড়েছেন এবং পুলিশ প্রশাসনকে তোলাবাজদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন বিধায়কদের একাংশ ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে পুরাতন সুবিধাবাদীদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন, যা পার্টি নজরে রাখছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব হিসাব করা হবে। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারও নিশ্চিত করেছেন যে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দলীয় এবং প্রশাসনিক—দুই স্তরেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও তোলাবাজি নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিরোধী দল তৃণমূল। মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, সরকার গঠনের তিন মাস কাটতে না কাটতেই বিজেপির শীর্ষ নেতাদের তোলাবাজি নিয়ে সরব হতে হচ্ছে, যা প্রমাণ করে মাত্র তিন মাসেই বিজেপি সরকার তোলাবাজির ভাইরাসে আক্রান্ত।