“আমি সংঘী হতে চাই!”— সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিয়ে ‘জাগ্রত হিন্দু’ হওয়ার ডাক কঙ্গনার

মুম্বই: অতীত ভিডিও ট্রোল করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণের মুখে পড়ে এবার স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন বলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। স্পষ্ট জানালেন, নিজের আদর্শ ও বিশ্বাস পরিবর্তন করার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার তাঁর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিজেপি ও আরএসএস-এর নীতি গ্রহণ করে একজন ‘সংঘী’ এবং ‘জাগ্রত হিন্দু’ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চান।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কঙ্গনার পুরনো নাচ-গান ও সিনেমার প্রচারের ভিডিও তুলে ধরে কটাক্ষ করছিলেন নেটিজেনদের একাংশ। তার জবাবে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে কঙ্গনা বলেন,
“সবাই যেমন নিজের পছন্দের ধর্ম বা মতাদর্শ বেছে নিতে স্বাধীন, আমারও নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। হ্যাঁ, আমি একসময় মধ্যপন্থী হিন্দু ছিলাম, কিন্তু এখন আমি বিজেপি ও আরএসএস-এর আদর্শ গ্রহণ করতে চাই। আমি সংঘী ও জাগ্রত হিন্দু হতে চাই। আমি কেন ধর্মান্তরিত হতে পারব না?”
কাউকে সরাসরি নিশানা না করলেও কঙ্গনা অভিযোগ করেন, বিনোদন জগতের অনেক বোন বা সাধারণ হিন্দু নারীদের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় আদর্শ থাকে না। কিন্তু সম্পর্ক, বিয়ে বা বন্ধুত্বের সময় তাঁরা কঠোর বামপন্থী মনোভাব দেখান। কঙ্গনার প্রশ্ন, তাঁদের বিষয়ে সমাজ নীরব থাকলেও তাঁর সিদ্ধান্তের বেলাতেই এত বেছে বেছে প্রশ্ন তোলা হয় কেন?
নিজের অতীত নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে কঙ্গনা জানান, তিনি আগে বলিপাড়ায় স্বজনপোষণ (নেপোটিজম) থেকে শুরু করে নায়ক-নায়িকাদের সমান পারিশ্রমিকের দাবিতে একাধিক লড়াই করেছেন। বড় নায়কদের সাথে কাজ না করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। অতীতের ভুলত্রুটি বা পরিবর্তন নিয়ে গ্লানিবোধ করার কিছু নেই দাবি করে তিনি বলেন, হিন্দু নারীদের অতীত তুলে ধরে খোঁচা না দিয়ে, তাঁদের বিশ্বাস পরিবর্তনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।
অন্যদের সমালোচনায় কান না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় কঙ্গনা রানাওয়াত আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর মতোই সমাজের অন্যান্য নারীরাও নিজের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিশ্বাস বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পাবেন।