কাজের অতিরিক্ত চাপ ও বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য বিতর্ক! আশাকর্মীর মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র বাঁকুড়া

কাজের অতিরিক্ত চাপ ও বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য বিতর্ক! আশাকর্মীর মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র বাঁকুড়া

বাঁকুড়া: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতাল। এক আশাকর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের হস্তক্ষেপর পরও কাটল না জট।

ঠিক কী ঘটেছিল? প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপীনাথপুরের আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডল সোমবার সকালে নিজ বাড়িতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হৃদরোগে আক্রান্ত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই খবর রাষ্ট্র হতেই হাসপাতালে আছড়ে পড়ে ক্ষোভের ঢেউ। সহকর্মীদের অভিযোগ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ‘ই-কেওয়াইসি’ (e-KYC) করানোর অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণেই রুম্পাদেবীর এই করুণ পরিণতি হয়েছে।

বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি: মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শতাধিক আশাকর্মী হাসপাতালে জড়ো হয়ে মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি—

  • আশাকর্মীদের ওপর থেকে অবিলম্বে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজের অতিরিক্ত বোঝা সরাতে হবে।
  • সম্প্রতি আশাকর্মীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়িকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

বিক্ষোভের কারণে শববাহী গাড়ি আটকে গেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গঙ্গাজলঘাঁটি থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি পর্যন্ত হয়। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠালেও হাসপাতাল চত্বরে আশাকর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।

প্রশাসনিক বৈঠক ও অচলাবস্থা: পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হাসপাতালে হাজির হন বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) শ্যামল সোরেন, মহকুমাশাসক, বড়জোড়ার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ এবং পরবর্তীতে শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি।

হাসপাতাল চত্বরেই প্রশাসনিক কর্তা ও বিধায়কদের সঙ্গে আশাকর্মীদের প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। তবে নিজেদের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা অনড় থাকায় দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান সূত্র বের হয়নি। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েই প্রশাসনিক কর্তাদের ফিরে যেতে হয়।

বিধায়ক চন্দনা বাউড়ির বক্তব্য: এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি বলেন, “যেকোনো কর্মীর মৃত্যুই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” নিজের মন্তব্যের সাফাই দিয়ে তিনি জানান, ধান রোপণের মরশুমে গ্রামবাসীদের ই-কেওয়াইসির জন্য এক জায়গায় ডেকে আনায় সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছিল। তাই তিনি দুটি আলাদা কেন্দ্রে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন মাত্র। তাঁর কথাকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *